গাবতলী পার হলেই আমিনবাজার। এর পরই বলিয়ারপুর। সাভার উপজেলার এ দুটি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। মহাসড়কের উভয়মুখী লেনের পাশে ময়লার স্তূপ। মহাসড়কের পাশ যেন হয়ে উঠেছে ভাগাড়। অথচ পাশেই রয়েছে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল, যেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিদিন চার হাজার টনের বেশি বর্জ্য ফেলছে।
শুধু আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর নয়; ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড, বাংলাদেশ বেতারসংলগ্ন ইউটার্ন, বিশমাইল, ধামরাইয়ের ইসলামপুর, থানা স্ট্যান্ড এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল ও শ্রীপুর এলাকার অন্তত ১৫টি স্থানে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো এলাকা সাভার পৌরসভার মধ্যে পড়েছে। তবে এর দায় নিতে রাজি নয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা সাভার পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বর্জ্যে সাধারণত সালফার ও হাইড্রোকার্বন থাকে। যা থেকে ক্যান্সার, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে অ্যাজমা হতে পারে। যেকোনো ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ছড়াতে পারে। যা মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বলিয়ারপুর থেকে আমিনবাজার পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশন পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে ফেলা বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকায়। কোনো কোনো স্থানে মহাসড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে বর্জ্য। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দুর্ঘটনার শঙ্কাও থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারীদের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারীদের সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবস্থা এমন নাকে রুমাল গুঁজেও দুর্গন্ধে টেকা মুশকিল। এর মধ্যে কিছু বর্জ্য আবার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী জলাধারে মিশছে। এতে দূষিত হচ্ছে পানি।
স্থানীয়রা বলছেন, চার-পাঁচ মাস ধরে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এসব ময়লা ফেলা হয়। দিনের বেলা আমিনবাজার ইউনিয়নের ময়লার ভ্যানে করে এখানে আবর্জনা ফেলতে দেখা যায়।
বলিয়ারপুরের বাসিন্দা সাত্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘৩০ বছরের বেশি আমি এখানে বাস করছি। সবসময় দেখি ল্যান্ডফিলে ময়লা ফেলা হয়। কয়েক মাস ধরে দেখছি রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি গন্ধ ছড়ায়। তখন এলাকায় থাকা মুশকিল হয়ে যায়। আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’
আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের স্কেলম্যান হারুনুর রশিদ সাভার পৌরসভার ওপর দায় দিয়ে বলেন, ‘এখানে ঢাকা উত্তর সিটির সব বর্জ্য ফেলা হয়। ময়লা বাইরে আনলোড করার কোনো কারণ নেই। কারণ ট্রাকগুলো স্কেলে না এলে বিল পাবে না।’ তার দাবি, রাস্তার পাশের ময়লাগুলো সাভার পৌরসভা ফেলে।
এ ব্যাপারে পৌরসভার কনজরভেন্সি ইন্সপেক্টর সেলিম আহমদ বলেন, ‘প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও এখানে ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই। তাই আমরা কয়েক মাস আগে থেকে ল্যান্ডফিলসংলগ্ন খাসজমিতে ময়লা ফেলছি। কিন্তু সেটা রাস্তায় আসছে না। নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে কোনো জায়গায় পৌরসভার ময়লা ফেলা হয় না।’
তবে সাভার পৌরসভার ময়লা ফেলার স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়ক ঘেঁষেই ফেলা হচ্ছে ময়লা। এর একটি অংশ জলাধারে মিশে পানি দূষিত করছে। এর বাইরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের মাশরুম সেন্টারের সামনে এবং বাংলাদেশ বেতারসংলগ্ন ইউটার্ন এলাকার ময়লা সাভার পৌরসভা থেকে ফেলা হয়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, রাস্তার পাশে খোলা জায়গার বর্জ্য শুধু দুর্গন্ধই ছড়াচ্ছে না, মাটি ও পানির দূষণও বাড়াচ্ছে। পরিবেশকর্মী অরিত্র সাত্তার বলেন, ‘রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার সাধারণ সমস্যা সবাই দেখছি। এটার পরিবেশগত প্রভাব বললে, গন্ধের মধ্যে দেখা যাবে কারো চোখ জ্বলছে, নাক জ্বলছে। এগুলো মূলত ময়লার মধ্যে থাকা সালফার ও হাইড্রোকার্বনের কারণে হচ্ছে। এখান থেকে ক্যান্সার, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে অ্যাজমা হতে পারে। যেকোনো ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ছাড়াতে পারে।’