মেহেরপুরে জ্বালানি তেল মজুদ করছেন ভোক্তারা কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধের কবলে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। এতে দেশের বাজারেও বাড়তে পারে তেলের দাম। এ অবস্থায় মেহেরপুরে জ্বালানি তেল মজুদ করছেন ভোক্তারা, যা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি। অনেকেই মোটরসাইকেলের ট্যাংক পূর্ণ করে নেয়ার পরও ড্রামে তেল সংগ্রহ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী ও মজুদদার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন।

গাংনী ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা জুগিন্দা গ্রামের কৃষক জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কৃষক মানুষ। সেচের জন্য ডিজেল প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় তেলের সংকট তৈরি হতে পারে। এজন্য তেল নিতে এসেছি। সামনে সেচ মৌসুম, তেল না পেলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আগেভাগেই কিছু ডিজেল নিয়ে বাড়িতে রাখব।’

গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের জাহিরুল ইসলাম মোটরসাইকেলে একটি ১২ লিটারের ড্রাম নিয়ে এসেছেন তেল নিতে। মোটরসাইকেলে তেল নেয়ার পর ড্রাম পূর্ণ করে নিয়েছেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে, তেল আমদানি বন্ধ হতে পারে যেকোনো সময়। তাই কিছু তেল নিয়ে রাখছি।’ একই কথা জানান পাম্পে তেল নিতে আসা রুহুল আমীন, মহরম আলীসহ অনেকে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, ‘জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ দেশে রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। মজুদ করার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। এ সুযোগ নেবে ব্যবসায়ীরা। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা বেশি দাম রাখলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গ্রামের বাজারের বিভিন্ন দোকানেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও তেল মজুদ করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এ অস্বাভাবিক চাহিদার বিষয়ে স্থানীয় এক ফিলিং স্টেশনের মালিক রেজানুর বিশ্বাস বলেন, ‘সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষ আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে। সবাইকে বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না।’

আরও