ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বছরজুড়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, দেশব্যাপী নজরদারি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক মশক নিধন, কমিউনিটি পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম কিংবা হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এজন্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার, গবেষক, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণা ও নিয়মিত জরিপ পরিচালনা এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
গতকাল বণিক বার্তা কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গু মোকাবেলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন বক্তারা। বণিক বার্তা ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। গোলটেবিলটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সহকারী সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ বিশেষ সংবাদদাতা মো. বদরুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা সরকার এককভাবে এ কাজ করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন। এ অভিযান ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে আমি মনে করি, এ কার্যক্রম সারা বছরই চালানো উচিত। কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকলেও সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলার সবচেয়ে বড় উপায় হলো প্রতিরোধ। আমাদের আর্থিক অবস্থা ও সামর্থ্য বিবেচনায় প্রতিরোধের ওপর জোর দেয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এছাড়া সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের জনগণকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা, যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। রোগটি নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ভীতিও কাজ করে। এক্ষেত্রে মানুষকে সঠিক তথ্য জানানো এবং সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আশা করি, ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করতে না পারলেও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।’
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পেতে তথ্য-প্রমাণ ও লক্ষ্যভিত্তিক এডিস মশা নিধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডেঙ্গু বিষয়ক পরামর্শক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘তিন বছর ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মশা নিয়ে গবেষণা ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের গবেষক দল। পূর্বাভাস মডেলের মাধ্যমে পাঁচ মাস আগেই এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। নভেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার সম্ভাবনা নেই। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা কার্যক্রম চললেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ, এডিস মশার প্রকৃত প্রজননস্থলগুলোতে যথাযথভাবে নজর দেয়া হচ্ছে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। বাসাবাড়ি ও আঙিনায় পানি জমতে না দেয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। কার্যকর ফল পেতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জিএম সাইফুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান ব্যবস্থার অন্যতম সমস্যা হলো সমন্বয়হীনতা। মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যকর করতে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বিশেষায়িত বিভাগ গঠন করতে হবে। সেখানে মেডিকেল এনটোমোলজিস্ট, এপিডেমিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে এক এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পাশের এলাকায় একইভাবে কাজ হচ্ছে না। এতে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক প্রয়োগের পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার, কীটনাশকের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ এবং মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ডেঙ্গুর সক্রিয় সংক্রমণস্থল বা ক্লাস্টার শনাক্ত করে সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগী শনাক্ত হলে তার সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র জানতে নিয়মিত জরিপ ও সেরোসার্ভিল্যান্স পরিচালনা করা প্রয়োজন।’
ল্যাবএইড হাসপাতালের সিইও আহমদ দাউদ বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় সারা বছর সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবেলা শুধু সরকার, সিটি করপোরেশন কিংবা চিকিৎসকদের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রাথমিকভাবে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভেতরে রাখা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, রোগীদের কাউন্সেলিং এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গুকে শুধু মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। সারা বছর প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে রোগীর তথ্য যথাযথভাবে রিপোর্ট করা জরুরি।’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, ‘কমিউনিটি পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার পর সেখানে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ না থাকলে শুধু নজরদারি দিয়ে লাভ হবে না। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই যন্ত্রপাতি ও জনবল দিতে হবে। স্বাস্থ্যজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি স্থায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা থাকা উচিত। স্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্থায়ী সমন্বয় ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে আইসিইউ, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও প্লাটিলেট পৃথক্করণ কেন্দ্রসহ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পরীক্ষার সুবিধা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রকৃত রোগীর সংখ্যা জানা গেলে যথাসময়ে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।’
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. মো. শফিউল আলম বলেন, ‘কমিউনিটিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হলে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমাদের দেশে মশা বা রোগবাহক মশার বিস্তার নিয়ে দেশব্যাপী সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা নেই। প্রাক্বর্ষা, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে কিছু জরিপ হলেও সেগুলো সারা দেশে হচ্ছে না। রোগ নজরদারি, মশা নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা এবং টিকাদানের বিষয়গুলোকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এসএম ওয়াসিমুল ইসলাম বলেন, ‘মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আমাদের বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীবাহিনীকে আরো সক্রিয় করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর—সারা বছরই মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের কার্যক্রম চলে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালভিত্তিক নজরদারিতেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। তবে কোনো বাসায় গিয়ে প্রথমেই ব্যবস্থা নেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। জনগণকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালগুলোতে মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা মশার ফাঁদ বা ট্র্যাপও স্থাপন করেছি। এগুলো সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মাজহারুল ইসলাম (সোহেল) বলেন, ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কীভাবে রোগটি প্রতিরোধ ও মশা নির্মূল করা যায়। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে একটি হলো রোগীর দেরিতে হাসপাতালে আসা। অন্যটি হলো রোগীর আগে থেকে বিভিন্ন ধরনের সহ-রোগ থাকা। আমার মনে হয়, ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ ডেঙ্গুর লক্ষণ, বিপৎসংকেত, পরীক্ষা এবং চিকিৎসার সঠিক সময় সম্পর্কে জানতে পারেন।’
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড কমিউনিটির অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা এখন ভয় পাচ্ছেন, রোগী মারা গেলে তাদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠবে। এ কারণে বিশেষ করে নবীন চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা অনেক সময় রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে দ্বিধা করছেন। আগে যেভাবে আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে চিকিৎসা করতেন, সেই আগ্রহও কিছুটা কমে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের কাছে আমার অনুরোধ, চিকিৎসার জটিলতা ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য তুলে ধরুন। চিকিৎসায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই সেটিকে ভুল চিকিৎসা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। এতে চিকিৎসকরা নিরুৎসাহিত হন এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
সূচনা বক্তব্যে বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘ডেঙ্গু শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি নয়, এটি দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। হামের প্রকোপের মধ্যে ডেঙ্গুর বিস্তার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারের আরো জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। ঢাকার যেসব ওয়ার্ডে মশার প্রজনন বেশি, সেগুলো ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। একইভাবে ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে দুই থেকে তিন বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকলেও কার্যকর পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংক্রমণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা যেতে পারে।’
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলায় সচেতনতা ও কার্যকর নীতিমালা জরুরি, ‘ডেঙ্গু মোকাবেলা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ জরুরি। গত দুই দশকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ, তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। বর্ষার আগে ও পরেও সংক্রমণ অব্যাহত থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দিনে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেকেই এখনো জানেন না, কীভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জমে থাকা পানি ও জলাবদ্ধতা এডিস মশার বংশবিস্তারে ভূমিকা রাখে। আবার আক্রান্ত হওয়ার পর রোগ শনাক্ত করতেও অনেক সময় দেরি হয়।’