ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মোকামে ধান সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমায় দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারেও। বছরের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। জেলার আড়তগুলোয় গত ১৫ দিনে সব ধরনের চালের দাম পাইকারিতে মণপ্রতি বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন মৌসুমের ধান কাটার আগে ঝড়ের কারণে অনেক স্থানে ক্ষতি হয়েছে। ফলন তুলনামূলক কম হয়েছে। মোকামে চাহিদামতো ধানের জোগান দেয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন মোকামে ধানের চাহিদা থাকে এক লাখ মণ। সেখানে ১০-১৫ হাজার মণ ধান কেনাবেচা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ধান ও চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০টির মতো চালকল থেকে সিলেট ও চট্টগ্রামের সব জেলায় এবং ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাল সরবরাহ করা হয়। এসব চালকলে ধানের জোগান দেয় আশুগঞ্জ মোকাম। চালকলগুলো থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ কোটি টাকার চাল বাজারজাত করা হয়। বর্তমানে মোকামে বিআর-২৮ জাতের ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৪৩০ টাকা, বিআর-২৯ ধান ১ হাজার ৩৮০, বিআর-৩৯ ১ হাজার ৩০০-১ হাজার ৩২০, বিআর-৪৯ ১ হাজার ৩২০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ ও মোটা ধান প্রতি মণ কেনাবেচা হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে।
এদিকে ধানের দর বাড়ায় চালের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে চালের দাম বেড়েছে মণপ্রতি অন্তত ১০০ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আড়তগুলো থেকে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৭৫০ টাকা, বিআর-২৯ ২ হাজার ৬০০, বিআর-৩৯ ২ হাজার ৪০০ ও বিআর-৪৯ চাল কেনাবেচা হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকা দরে। খুচরা বাজারে এসব চাল প্রতি বস্তা আরো অন্তত ১০০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমন ধান পাকার সময় কয়েক দিনের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ কারণে ফলন কম হয়েছে। দেখা দিয়েছে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের সংকট। ধানের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবে চালের দামও বেড়েছে। এ সংকট থাকা অবস্থায় চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে।’