ইনোভেশন ফেয়ারের সমাপনী দিনের আলোচনায় নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা

উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়তে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বয় দরকার

পরিষ্কার ও বিকল্প জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌সৌরশক্তি, বায়ু ও পানিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এসব সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’

উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি, পণ্য ও বাণিজ্যিক সমাধানে রূপ দিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের সমাপনী অনুষ্ঠান ও দিনের ভিন্ন আলোচনা সভার বক্তৃতায় এসব কথা উঠে আসে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সমাপনী দিনে ‘আগামীর শক্তি: পরিচ্ছন্ন ও বিকল্প জ্বালানির উদ্ভাবনী সমাধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া প্রযুক্তিগত ও শিক্ষাগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘‌২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন ও উদ্ভাবন ছাড়া সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। বাজারের জন্য যেমন উদ্ভাবন প্রয়োজন, তেমনি জনস্বার্থেও উদ্ভাবন প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতেও এর প্রয়োজন রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, এলডিসি থেকে শক্তিশালী উত্তরণ এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জন—এ তিন বিষয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশের বিপুল মেধাবী জনগোষ্ঠী ও তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হবে। এজন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।’

পরিষ্কার ও বিকল্প জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌সৌরশক্তি, বায়ু ও পানিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। এসব সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’

জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ‘‌সরকার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে এআই ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিশুদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সরকারি কাজগুলো অনেক সময় সাইলো ভিত্তিতে হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া, শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‌পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করছে। এতে কাজগুলো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ওভারল্যাপিং ও ডুপ্লিকেশন বন্ধ করে সর্বোত্তম ফলাফলের দিকে মনোযোগ দেয়া যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করতে জাতীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। সাইলো ভিত্তিতে কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে একাডেমিয়া, ব্যবসা খাত ও সরকারকে একসঙ্গে ভবিষ্যতের প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌তিনদিনের আয়োজনে ছয়টি প্যানেল সেশন, ছয়টি অডিটোরিয়াম সেশন, পাঁচটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি বিশ্লেষণ সেশন এবং তিনটি মেন্টরিং সেশন হয়েছে। মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবকরা তাদের ধারণা নিয়ে গবেষণা, গবেষণার সফলতা, এনজিও ও স্টার্টআপ ফান্ড এবং আইটি ও এআই সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে শেখার সুযোগ পেয়েছেন।’

তিনি জানান, মেলায় প্রায় ৫০টি উদ্ভাবনের স্টল ছিল। এসব উদ্ভাবনকে শিল্প ও সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য কাজ করা হবে। এ আয়োজন ভবিষ্যতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে করা হবে এবং এর আকার আরো বাড়ানো হবে।

ইনোভেশন ফেয়ারে শীর্ষ দশ নির্বাচিত হয়েছে হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি (প্রাকৃতিক আঁশযুক্ত পিসিবি), অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি এবং সেলফ কন্টাক্টর। নির্বাচিত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়েছে।

আরও