চুয়াডাঙ্গার সালিশ করতে এসে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ গেল পাওনাদারের

চুয়াডাঙ্গায় ডিঙ্গেদহে পাওনা টাকা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে সালিশ বৈঠকে এসে প্রতিপক্ষের হামলায় আলীমদ্দীন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ৯টার দিকে শংকরচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল আমল সুজনের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লিয়াকত নামে একজনকে আটক করে সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুল আলম সুজন জানান, নিহত আলীমদ্দীন (৫৫) একই গ্রামের লিয়াকতের (৬৫) সঙ্গে শংকরচন্দ্র মোকামতলায় ভূষিমালের ব্যবসা করতেন। সে হিসাবে লিয়াকতের কাছে ১৩ লাখ টাকা পেতেন আলীমদ্দীন। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা দেয়ার কথা বলে আসছিলেন লিয়াকত।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে লিয়াকতকে নিয়ে আমার বাড়ির সামনে সালিশ বৈঠকের জন্য আসে। এক পর্যায়ে লিয়াকতের ছেলে আলামিন (২৬) এসে আলীমদ্দীনের ওপর হামলা করে। এ সময় ইটের আঘাত ও লাথি-ঘুষির কারণে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আলীমদ্দীন। পরে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর লিয়াকতকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

নিহত আলীমদ্দীনের ভাতিজা আজিবর জানান, তার চাচা লিয়াকতের কাছে ১৩ লাখ টাকা পেতেন। তাকে নিয়ে ঘটনার ১০ মিনিট আগে সুজন চেয়ারম্যানের কাছে বিচারের জন্য এসেছিল। কিন্তু লিয়াকতের ছেলে আলামিন এসেই আলীমদ্দীনের ওপর হামলা করে ও তাকে হত্যা করে। এ সময় চাচার হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে হাতাহাতির ঘটনায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও