বর্তমানে তিতাসের কাছে পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় থাকলেও সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।
দেশের মোট গ্যাস বিতরণের প্রায় ৬০ শতাংশ তিতাসের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানায়ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে তিতাস নিজে কোনো গ্যাস উৎপাদন করে না, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে পেট্রোবাংলার বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। দেশীয় গ্যাস ক্ষেত্র ও আমদানীকৃত এলএনজি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায়, পেট্রোবাংলা তা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে বরাদ্দ দেয়।
তিতাসের আওতাধীন ১২-১৩টি জেলার শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। অন্তত ১ হাজার ৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস।
সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহের ওপর আরো চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সংকট তীব্র। প্রতিদিনই শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ আসছে। আবাসিক গ্রাহকদের অভিযোগও নিয়মিতভাবে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
বর্তমানে তিতাসের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি আবেদন রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০-এর বেশি গ্রাহক ডিমান্ড নোট অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়ে গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তাদের সংযোগ দেয়া যাচ্ছে না।
যতক্ষণ পর্যন্ত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন না বাড়বে কিংবা পর্যাপ্ত গ্যাসের জোগান নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ দিতে পারব না।”
ভবিষ্যতে নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেয়ার সক্ষমতা নির্ভর করবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। এ বিষয়ে বাপেক্সের অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।