রংপুরে আলুর বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের প্রভাব পড়েনি

বুধবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয় হিমাগারের গেটে প্রতি কেজি আলুর সর্বনিম্ন মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে ৫০ হাজার টন আলু কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণার ৪ দিন পর ৩১ আগস্ট রোববার জেলার বিভিন্ন বাজারের আলুর আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। আড়তে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা থেকে সাড়ে ১৩ টাকায়।

সরকার আলু চাষীদের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হিমাগারের গেটে আলুর বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত জেলা রংপুরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো নির্ধারিত মূল্যের প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রয় হচ্ছে আলু। এমনকি খুচরা বাজাবে ভালো মানের আলু বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকায়।

বুধবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয় হিমাগারের গেটে প্রতি কেজি আলুর সর্বনিম্ন মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে ৫০ হাজার টন আলু কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণার ৪ দিন পর ৩১ আগস্ট রোববার জেলার বিভিন্ন বাজারের আলুর আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। আড়তে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা থেকে সাড়ে ১৩ টাকায়।

রংপুর সিটি বাজারের অন্যতম আড়ৎদার মো. নজরুল ইসলাম রাজু বলেন, সরকারের হিমাগার গেটে আলুর সর্বনিম্ন দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও তা কোথাও মানা হচ্ছে না। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা থেকে সাড়ে ১২ টাকায়। ১ বস্তা আলু হিমাগার থেকে নিয়ে আড়ৎ পর্যন্ত আসতে আরো খরচ আছে প্রায় ১২০ টাকা। এবার হিমাগার মালিককে বস্তা প্রতি খরচ দিতে হচ্ছে ৩৮৫ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। অথচ গতবার এ ব্যয় বস্তাপ্রতি প্রায় ১শ' টাকার মতো কম লেগেছে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন আলু বেশি উৎপাদন হয়েছে। যা জেলায় অবস্থিত ৪০ টি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতার কাছাকাছি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে জেলায় আলু আবাদ হয়েছে ৬৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। আলুর উৎপাদন হযেছে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন। গতবছর ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন হয়েছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৫৭৬ মেট্রিক টন।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হিমাগার রয়েছে ৪০টি। আলু ধারণক্ষমতা হচ্ছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭৪৭ মেট্রিক টন। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত আলু সংরক্ষণে আছে ৪ লাখ ২৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের শেষে বাজারে নতুন আলু আসবে। তখন পুরাতন আলুর চাহিদা অনেক কমে যাবে। তাই সরকারের গৃহীত প্রদক্ষেপ এখন শেষ ভরসা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএডিসি (বীজ বিপনন) রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মাসুদ সুলতান বণিক বার্তাকে বলেন, কৃষক আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আসন্ন আলু মৌসুমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও