তুঁতগাছের চারা উৎপাদন, পলু পোকা পালন, রেশম ডিম ও গুটি উৎপাদনের লক্ষ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণ করা হয় রেশম বীজাগার। এক সময় এখানে রেশমের গুটি থেকে সুতা তৈরি হতো। সেই সুতা রাজশাহী সিল্ক কারখানায় যেত। তৈরি হতো সিল্কের শাড়িসহ নানা পোশাক। এখন শুধু তুঁতের চারা উৎপাদন কার্যক্রম চলমান। বাকি সব কার্যক্রম বন্ধ। পুরো প্রতিষ্ঠান জঙ্গলে ভরে গেছে।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের অরণকোলা মৌজায় ১৯৬২ সালে প্রায় ১০৮ বিঘা জমির ওপর ঈশ্বরদী রেশম বীজাগার স্থাপিত হয়। ৫৯ বিঘা জমিতে আবাদ করা হয় তুঁতগাছ। বাকি ৩৮ বিঘা জমিতে অফিস, আবাসিক ভবন, পলু পালন ঘর, তাঁতঘরসহ ১৯টি ভবন ও চারটি পুকুর তৈরি করা হয়। ফার্ম ব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পদে ছিল ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শতাধিক শ্রমিক। বীজাগারটি চালুর কিছুদিনের মধ্যেই জমজমাট হয়ে ওঠে। তুঁতগাছে সবুজ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তুঁতগাছের চারা উৎপাদন, পলু পোকা পালন, রেশম ডিম ও গুটি উৎপাদনের পাশাপাশি চলতে থাকে সুতা তৈরির কাজ। কর্মচাঞ্চল্যতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকাটি। তবে এখন বীজাগারটি পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে বাড়িতে। দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঘন জঙ্গল আর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে।
বীজাগারটিতে ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শুধু একজন ম্যানেজার দায়িত্বে আছেন, বাকি পদগুলো ফাঁকা। এছাড়া শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও এখানে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক ২২ জন শ্রমিক, দুজন নৈশপ্রহরী ও মাসিক চুক্তিভিত্তিক একজন কম্পিউটার অপারেটর কর্মরত রয়েছেন। দৈনিক হাজিরার এসব শ্রমিকের আবার মাসে কাজ হয় ১০-১২ দিন। বাকি দিন তাদের কর্মহীন থাকতে হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, পলু পালন, রেশম গুটি ও রেশম ডিম উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তুঁতগাছ থাকলেও পরিচর্যা করার লোকবল নেই। ফলে তুঁতগাছের জমি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পলু পোকা পালন, রেশম গুটি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত একতলা চারটি ও দোতলা দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একতলা চারটি ভবন পরিত্যক্ত। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে গেছে। জানালা-দরজা ভেঙে গেছে। গজিয়েছে লতাপাতা। গ্রামভিত্তিক রাস্তার পাশে তুঁত আবাদও বন্ধ প্রায়।
এ ব্যাপারে রেশম বীজাগারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে ভালোই চলছিল এর কার্যক্রম ও উৎপাদন। কিন্তু বিভিন্ন সময় অর্থের অভাবে ও জনবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। লোকবল ও অর্থের জোগান পেলে এখনো বীজাগারের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’