এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দুই মাসের দায় পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) দেশের রিজার্ভ ছিল ১ হাজার ৮৪৩ কোটি বা ১৮ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আকুর দায় পরিশোধের আগে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতি দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া আমদানির দায় পরিশোধ করা হয়। আন্তঃদেশীয় এ লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সদস্য দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ভুটান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার ও নেপাল। এর আগে শ্রীলংকাও আকুর সদস্য দেশ ছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে দুই বছর আগে তারা এ লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আমদানি দায় বাবদ আকুর মাধ্যমে গত সপ্তাহে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এ কারণে রিজার্ভের পরিমাণ এক ধাক্কায় ২০ বিলিয়ন থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আকুর ১৩৭ কোটি ডলার দায় পরিশোধ করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্টের শুরুতে বিপিএম৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বরে আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছিল। রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে নভেম্বরের শুরুতে এসে রিজার্ভের পরিমাণ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। তবে আবারো আকুর দায় পরিশোধের কারণে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। আবার রফতানি খাতও প্রবৃদ্ধির ধারায় আছে। এ কারণে গত তিন মাসে রিজার্ভ ও বিনিময় হার বেশ স্থিতিশীল। আকুর দায় পরিশোধের পর রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। তবে আশা করছি, চলতি মাসেই রিজার্ভ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে উন্নীত হবে।’