বাংলাদেশে জ্বালানিতে মাত্র আড়াই থেকে ৩ শতাংশ আর মোট ইনস্টলেশন ৫ শতাংশ। অর্থাৎ খুবই নগণ্য পর্যায়ে আছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে আমাদের যেতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক। আমরা যাব—এটি বাস্তবতা। কিন্তু কীভাবে?
আইপিপিতে (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) প্রায় ৫৫টা টেন্ডার হয়েছে। ওখানে পেমেন্ট গ্যারান্টি, ব্যাংকেবল ডকুমেন্ট নেই। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসছে না। আমাদের সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী কথা বলে, কিন্তু সেখানে সুযোগটা তৈরি হয়নি। আমরা যদি আসি পিপিএর (পাওয়ার পার্সেস এগ্রিমেন্ট) ক্ষেত্রে, সেটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এখন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষে পিপি হয়েছে এমন উদাহরণও নেই। সেটা আসলে কবে হবে তাও জানি না। তার মানে এখানে কিন্তু বিনিয়োগের সুযোগ নেই।
এরপর এমপিপি (মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট), এসএলডিতে হুইলিং চার্জ এখন পর্যন্ত কনফার্ম হয়নি। বেশ কয়েকদিন আগে আইন হলেও প্রক্রিয়াগতভাবে শেষ হয়নি। সোলার হোম সিস্টেম রুফটপের অনেক গল্প, অনেক বড় বাজেট, বড় টার্গেট, কৌশলপত্র তৈরি হয়েছে। সরকার বাজেটে ঘোষণা দিল আমাদের ‘জিরো ট্যাক্স’। কিন্তু আগে সোলার জেনারেশন সেট হিসেবে ১ শতাংশে ক্যাপিটাল মেশিনারি আনার সুযোগ ছিল। সেটা এখন ১৭ শতাংশ হয়েছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) যুক্ত হয়েছে। ভ্যাট বুঝলাম, কিন্তু এআইটি কেন? আপনারা বলছেন, যে কোম্পানি রিনিউয়েবল এনার্জি করবে তাদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি ১০ বছরের জন্য। তাহলে আবার এআইটি কেন দিতে হবে? এ বিষয়গুলো কমপ্লিকেটেড। এখন যদি বলি ৫০ জন বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের জায়গা নেই। কোথায় ও কোন প্রজেক্টে বিনিয়োগ করব কেউ বলতে পারবেন?
একটা জায়গা ছিল রুফটপে। শিল্প মালিকরা নিজের পয়সায় করছিলেন, সেখানেও বাধা তৈরি করলেন। ১৫ শতাংশ ভ্যাট ২ শতাংশ এআইটি লাগিয়ে দিলেন। আল্টিমেটলি কোথায় যাচ্ছি আমরা? কয়লা আছে, উত্তোলনে কোনো পরিকল্পনা নেই। কবে তুলবেন, কবে শেষ হবে; কোনো গাইডলাইন নেই। গ্যাসের ব্লকগুলোতে টেন্ডার করেছি, কবে নাগাদ আসবে, কতটুকু পাওয়া যাবে এখন পর্যন্ত কোনো ডিটারমিনেশন নেই। সোলার একটা ছোট সোর্স ছিল, উইন্ডের সুযোগ আছে। সেটাকে কাজে লাগানো যায় কিন্তু পলিসিতে আটকে আছে। এভাবে কোনোদিনই রূপান্তর কিংবা জ্বালানি নিরাপত্তা সম্ভব নয়। এখানে দুটো জিনিস দরকার, কোঅর্ডিনেশন আর সাহসী সিদ্ধান্ত।
সংসদে শূন্য ট্যাক্স ঘোষণা দিয়ে শর্ত থাকে বলে প্যাঁচ লাগিয়ে দিচ্ছেন। এ শর্তের মধ্যে আর কেউ ঢুকতে পারছে না। অনেকেই বলেন সোলারের দাম বেশি। ট্যাক্স যদি বেশি করেন সোলারের দাম বাড়বেই। এ জায়গাগুলোতে কেউ খেয়াল করছি না।
বাস্তবতা হচ্ছে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় না গেলে এবং সাহস করে এগোতে না পারলে জ্বালানি রূপান্তর বা রিনিউয়েবল বাস্তবায়ন সম্ভব না। সরকার যদি ধীরে এগোয় তাহলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এতে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এখানে সমন্বিত ও সাহসী উদ্যোগ এবং ডিটারমিনেশন থাকতে হবে যে এ জায়গাগুলোতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করা হবে। কখন সাগরের গ্যাস আসবে, কখন কয়লা উঠাব সেটার হিসাব থাকতেই পারে, এগুলোও লাগবে। কিন্তু এ মুহূর্তে সুযোগটা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। আমাদের সুযোগগুলোকে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে।