সিলেটে সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন

বিজিবির জন্য নিজেদের ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগের কথাও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (এসএসএসডিডব্লিউ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

মব অনেকাংশেই সরকার নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মবের অপসংস্কৃতি রোধে সরকার সজাগ রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে বিজিবিকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে সীমান্তে চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধ কমে আসবে। এছাড়া চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’

মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতে জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন। তাই থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরো বাড়ানো হবে। বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বিজিবির জন্য নিজেদের ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগের কথাও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’

দুর্যোগকালেও ড্রোন ব্যবহার করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো ও উদ্ধার কার্যক্রমে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের কাজে বিজিবির সদস্যরা এরই মধ্যে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বাহিনীর সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক জনগণকেও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

উদ্বোধনের পর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম ও ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনীও দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর সিলেট সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সিলেট জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

এছাড়া সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও