চুয়াডাঙ্গায় আখের সঙ্গে উৎপাদন হচ্ছে সাথি ফসল

আখ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ১২-১৪ মাস সময় লেগে যায়। সে অনুপাতে কৃষকের লাভ কম।

আখ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ১২-১৪ মাস সময় লেগে যায়। সে অনুপাতে কৃষকের লাভ কম। এজন্য চুয়াডাঙ্গার অধিকাংশ চাষী আখ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে চুয়াডাঙ্গায় আখের পাশাপাশি একই জমিতে সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করছেন কৃষক। লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের।

চুয়াডাঙ্গা চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চিনিকলটি আখ মাড়াই করে চিনি, চিটাগুড়, উন্নত মানের মদ, ভিনেগার এবং জৈবসার উৎপাদন করে আসছে। কিন্তু দিন দিন উন্নত জাতের আখ চাষ কমে যাওয়ায় চিনি আহরণ কমে যাচ্ছে। আবার আখ ১২-১৪ মাসের চাষ হওয়ায় চাষীরা জমি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। কারণ জেলায় আখের তুলনায় ফসল চাষ লাভজনক। আখ উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষককে লাভবান করতে আধুনিক প্রযুক্তিতে আখের পাশাপাশি সাথি ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছে বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট।

ইনস্টিটিউটের চুয়াডাঙ্গা উপকেন্দ্রের তথ্যমতে, আখের পাশাপাশি ডাল, মসলা ও সবজিজাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়নে চলতি মৌসুমে দেড় শতাধিক চাষীকে বীজ, সার ও কীটনাশক সহায়তা দেয়া হয়েছে। একজন চাষীর জমি ও শ্রম ছাড়া চাষের সব উপকরণই সরবরাহ করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। আখের সঙ্গে ভুট্টা, সরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গাজর, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রকার ডাল চাষ করছেন চাষীরা।

বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আবু তাহের সোহেল বলেন, ‘এটি তিন বছরের প্রকল্প ছিল, কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রমে খুশি হয়ে প্রকল্পের কাজ এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য আখ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষে কৃষককে উৎসাহিত করা।’

জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের আখচাষী রাশেদুল বলেন, ‘আখের পাশাপাশি ফুলকপি চাষ করেছি। এ দুটি চাষে আমার ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখ আর ফুলকপি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এতে খরচ বাদে আমার লাভ হবে ২ লাখ ৭০-৮০ হাজার টাকা।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. ওমর আলী বলেন, ‘আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। এ ফসল উঠতে ১২-১৪ মাস সময় লাগে, কিন্তু কৃষকের সবসময় টাকা দরকার। আবার আমাদের জমিও কম, কিন্তু একই জমি থেকে আমরা বিভিন্ন ফসল পেতে চাই। খরচ বেশি হচ্ছে, তাই খরচও বাঁচাতে চাই। সেজন্য আমরা আখের পাশাপাশি সবজি, মসলা এবং ডাল জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আখের ফলন বাড়ছে। এ অঞ্চলে যে ফসল ভালো হয়, সে ফসল আখের সঙ্গে চাষ করে মুনাফা অর্জন সম্ভব। জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, খরচ কমানো ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

আরও