সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণ করা হচ্ছে সাততলার দুটি ভবন। পৌরসভার এসবি ফজলুল হক রোডে হরিজন কলোনিতে নির্মীয়মাণ ভবন দুটিতে ফ্ল্যাট থাকবে ৯৬টি। লিফটসহ আধুনিক সব ব্যবস্থা রেখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভবন দুটি নির্মাণ করছে। ২০২৩ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো ৬০ শতাংশ কাজ বাকি। ২০২৫ সালের মে মাসে কাজ শেষ করার কথা।
তবে বেঁধে দেয়া সময়ে বাকি কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। তারা বলছেন, ভবন দুটি নির্মাণ হলে আবাসন সংকট নিরসন হবে। তবে ধীরগতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা বলছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে কাজ পিছিয়েছে। তবে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে ভবন নির্মাণ শেষ করার চেষ্টা করছি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। এসবি ফজলুল হক রোডে ভবন নির্মাণের জন্য জমি দিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের আওতায় হরিজন কলোনিতে সাততলার দুটি আবাসিক ভবন নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন হয় ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল। কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসবিএল-এমএমসি জয়েন্ট ভেঞ্চার। কাজ শুরু করা হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে মাসে কাজ শেষ করার কথা। নির্মীয়মাণ ভবনে ৯৬টি পরিবার বসবাস করতে পারবে।
তিন বছরে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও দেড় বছরে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমি বুঝিয়ে দিতে কালপেক্ষণ ও নানা প্রতিকূলতার কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা চেষ্টা করা হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প প্রকৌশলী সিয়াম হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আমরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। এছাড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জমি বুঝিয়ে দিতে প্রায় এক বছর সময় পার করেছে। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা কষ্টকর হবে।’
ভবন দুটি নির্মাণ হলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসন হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা। তবে ধীরগতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হরিজন কলোনির বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হরিজন কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রতন কুমার বাসফোর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হরিজনদের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। সংকট নিরসনে সরকারের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। ভবন দুটি নির্মাণ হলে প্রায় ১০০টি পরিবারের আবাসন সংকট দূর হবে। যে গতিতে কাজ হচ্ছে, তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে বলে মনে হয় না।’
হরিজন সংঘের সাধারণ সম্পাদক অপু কুমার হেলা বলেন, ‘ভবন নির্মাণকাজের জন্য আমারা জায়গা ছেড়ে দিয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। যদিও তাদের থাকার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। তবে ছোট সে কক্ষে মানবেতর জীবনযাপন করছে হরিজন পরিবারগুলো। কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে দায়সারাভাবে ভবন নির্মাণ করছে। কাজটি আসলে কত বছরে শেষ হবে, তা ঠিক করে বলা কঠিন।’
সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুটি আবাসিক ভবনে লিফটসহ আধুনিক সব সুবিধা থাকবে। ঠিকাদারকে জমি বুঝিয়ে দিতে প্রায় নয় মাস সময় পার হয়েছে। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে কাজে কিছুটা ধীরগতি এসেছে।’
এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক কারণ থাকলে প্রয়োজনে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে কাজ যথাসময়ে শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।’