এ ঘটনায় দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল জুমার নামাজের পর কলমাকান্দা উপজেলার বাবনি এলাকায় উপড়ে ফেলা গাছগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ৫ আগস্ট স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক চারা রোপণ করা হয়েছিল। সেখান থেকে ২৫ আগস্ট রাতে ৩৫টি চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
তিনি বলেন, ‘গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। আমি বলব, এ গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।’
পরিবেশের ভারসাম্য ও জীবনের সুরক্ষায় গাছের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।’
ডেপুটি স্পিকার ওই একই স্থানে নতুন করে আরো ১ হাজার ২০০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি চারা রক্ষা ও সঠিক পরিচর্যার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রশাসনের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল—কে বা কারা এ গাছগুলোকে হত্যা করেছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করা। কিন্তু দুইদিন চলে গেলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। আমি নির্দেশ দিচ্ছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাছ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
জনতা ও প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ গাছগুলো শুধু সরকারের সম্পদ নয়, এগুলো আমাদের সবার সম্পদ। একটি গাছ রক্ষা করা মানে একটি জীবন রক্ষা করা।’ তিনি স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে গাছ সুরক্ষায় পাহাদার হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চারা রোপণ কর্মসূচিতে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুনমুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনএম আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।