উৎপাদন ছিল চাহিদার চেয়েও বেশি। কিন্তু সঞ্চালন ও গ্রিড বিপর্যয়ে ভোর থেকে টানা ৩ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। আবাসিকের পাশাপাশি সব শ্রেণীর গ্রাহক ছিল বিদ্যুৎহীন। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভারী শিল্প কল-কারখানার উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্যের মান বিনষ্ট হওয়া, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন কমে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোর ৫টা ১২ মিনিটে চট্টগ্রামের শিকলবাহা সাব-স্টেশন ও কক্সবাজারে গ্রিড ফল্ট বা বিপর্যয় হয়। এতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিতরণ অঞ্চল বিদ্যুৎশূন্য হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও চকরিয়া অঞ্চলেও একই ধরনের গ্রিড ফল্ট দেখা দেয়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যাহত হয়। সকাল ৮টার পর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও কক্সবাজার ও চকরিয়া অঞ্চলে সকাল ৭টার দিকে নতুন করে সঞ্চালন বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে ওই অঞ্চলে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হতে সময় লাগে আরো ৮ ঘণ্টা।
চট্টগ্রাম বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের তথ্য বলছে, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে শিকলবাহা সাব-স্টেশনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হলে ত্রুটি সারিয়ে ৬টা থেকে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। সকাল ৮টার দিকে শতভাগ সঞ্চালন শুরু করতে সক্ষম হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও চাহিদার তুলনায় বাড়তি উৎপাদনের ফলে চট্টগ্রামে কয়েক দিন ধরে কোনো লোডশেডিং হচ্ছে না। তবে ন্যাশনাল গ্রিডের সঞ্চালন ব্যবস্থাপনার ফ্রিকোয়েন্সি ডিস্ট্রিবিউশনের স্বার্থে মাঝেমধ্যে সাময়িক বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।
জানতে চাইলে পিডিবির চট্টগ্রাম বিতরণ বিভাগের (দক্ষিণাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোর ৫টা ১২ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখা দেয়। ৬টার দিকে চট্টগ্রামের শিকলবাহা সাব-স্টেশনের ত্রুটি সারিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু করা হয়। সকাল ৮টার মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও কক্সবাজার-চরকিয়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বেলা ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে হয়েছে, কোনো লোডশেডিং নয়।’
জানা গেছে, চট্টগ্রামে ত্রুটি সারিয়ে ভোর ৬টা থেকে বিদ্যুৎ ডিস্ট্রিবিউশন শুরু করে পর্যায়ক্রমে সকাল ৮টার মধ্যে চট্টগ্রামের সব সাব স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু কক্সবাজার ও চকরিয়ায় সকাল ৭টার দিকে গ্রিড ফল্ট ত্রুটি সারিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে চাইলে সেটি পুরোপুরি দেয়া সম্ভব হয়নি। আরেকটি ত্রুটি চলে এলে নতুন করে বিপর্যয় শুরু হয়। তখন ৫০ শতাংশ গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেয়া গেলেও ৫০ শতাংশে গ্রিড বিপর্যয় অব্যাহত ছিল। তবে প্রকৌশলীরা চেষ্টা করে বেলা ৩টার মধ্যে চকরিয়া ও কক্সবাজারে বিদ্যুতের গ্রিড বিপর্যয় পুরোপুরি সারিয়ে তোলেন।
ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ভোর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন কারখানা মালিকরা। বিশেষ করে ভারী শিল্পের কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। লোডশেডিং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হলেও গ্রিড বিপর্যয়ের ফলে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ইস্পাত, সিমেন্টসহ ভারী শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদনে থাকা পণ্য নষ্ট হয়ে যায় কিংবা গুণগত মান কমে যায়। দীর্ঘসময় পর বিদ্যুৎ আসায় প্লান্ট পুনরায় চালু করতে আরো বেশি সময়ক্ষেপণ হয়। এতে পণ্যের নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়া, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এইচএম স্টিলের পরিচালক সরোয়ার আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও লোডশেডিংয়ের মাত্রা ছিল খুবই বেশি। কয়েক মাস ধরে সরবরাহ অনেকটা ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এতে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’