বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশ থেকে যে সকল প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসীরা। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। এ সময় সৌদি ফেরত প্রবাসীদের সরকারি খরচে বিভিন্ন দেশে পুনরায় পাঠানোর দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সৌদি ফেরত প্রবাসী শাহিদ। তিনি বলেন, আমরা জানি প্রবাসের মাটিতে মিছিল, মিটিং ও আন্দোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু যখন আমরা দেখলাম স্বৈরাচারী হাসিনা এ দেশের ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে তখন আমরা চুপ থাকতে পারি নাই। বিবেকের তাড়নায় আমরা জীবন বাজি রেখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধন ও মিছিলে অংশগ্রহণ করি। এর ফলে সে দেশের আইন লঙ্ঘন করা হয়। সে দেশের আইন লঙ্ঘন করার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে সৌদি পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করে। দীর্ঘ ৪১ দিন কারাবরণ শেষে শূন্য হাতে আমরা দেশে ফেরত আসি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যে সকল প্রবাসী গ্রেফতার হয়েছিল তাদের ডাটা তৈরি করে পুনর্বাসন ও আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখছি দীর্ঘ দুই মাস এই সরকারের সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।
শাহিদ বলেন, দেশে ফেরত আসায় হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া প্রবাসীদের এককালীন নগদ সহায়তা প্রদান করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করা পর্যন্ত দেশে কর্মসংস্থানের তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতে প্রবাসী বান্ধব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। প্রবাসে যাওয়ার সময় প্রবাসীদেরকে বিভিন্ন ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কোনোরকম জামিন ছাড়া ঋণ দিতে হবে। বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট দ্রুত সময়ে সরবরাহ করতে হবে এবং বিভিন্ন মেডিকেলগুলোতে কোনো কারণ ছাড়া যে মেডিকেল আনফিট দেখানো হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সৌদি ফেরত প্রবাসী সাইফুল, মিনাল মাহমুদ, আব্দুল নূর, নিশাত ও আলী প্রমুখ।