নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার চার লেন সড়কে ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করবে সড়ক বিভাগ। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে চারটির নির্মাণকাজ, কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ না হওয়ায় পথচারী ও কাজে আসছে না ফুটওভার ব্রিজগুলো। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ হওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। আর কর্তৃপক্ষ বলছে ডিপিপির নির্দেশনা অনুযায়ীই নির্মাণ হয়েছে ফুটওভার ব্রিজগুলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াখালীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এলাকা বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা। প্রায় ২৪ ঘণ্টাই যান চলাচলের পাশাপাশি মানুষের চলাচল থাকে এখানে। সড়ক পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। ফলে একটি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের দাবিও ছিল দীর্ঘদিনের। অবশ্য সোনাপুর-চৌমুহনী চার লেন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে চৌরাস্তায় এটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণও হয়। কিন্তু তা কোনো কাজেই আসেনি পথচারীদের।
নাহিদ, আজগর নামে দুই পথচারী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে চৌরাস্তা। সেখানে চারদিক মিলিয়ে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করলে সড়ক পারাপার অনেকটা নিরাপদ হতো, কিন্তু ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে চৌরাস্তা এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে বেশ খানিকটা দূরে। ফলে মানুষ সেটি ব্যবহার করছে না। উল্টো সেটি বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
শুধু চৌরাস্তার ফুটওভার ব্রিজটি নয়। চৌরাস্তা থেকে দক্ষিণ নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী পর্যন্ত মোট চারটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জয়নাল আবেদিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, একটি একলাশপুর বাজারে ও একটি মাইজদী বাজার এলাকায়।
স্থানীয়রা জানায়, চারটির মধ্যে চৌরাস্তা ও জয়নাল আবেদিন স্কুলের সামনের দুটির একটিও ব্যবহার হয় না। কারণ সেটার কোনো গুরুত্বই নেই। অন্যদিকে একলাশপুর ও মাইজদী বাজার এলাকায় যে দুটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও পথচারীরা তা ব্যবহার করছে না। ফুটওভার ব্রিজ থাকা স্বত্ত্বেও মানুষ ফের লেনের মতো ব্যস্ততম সড়ক ঝুঁকি নিয়েই পার হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সোনাপুর-চৌমুহনী সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ১৩ কিলোমিটার সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই মধ্যে চারটি ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় তেমন একটা কাজে আসছে না পথচারীদের। অথচ প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।
বিশিষ্টজনের মতে, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তাতে আরো নান্দনিক করা যেত এসব ফুট ওভারব্রিজ। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য রাখা যেত আলাদা সিঁড়ি। তাছাড়া স্বল্প দূরত্বে এতগুলো ব্রিজ অপ্রয়োজনীয় এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফুটওভার ব্রিজগুলো নির্মাণের আগে বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া ডিপিপির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণ হয়েছে ফুটওভার ব্রিজগুলো। তবে ভবিষ্যতে যে কটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো নির্মাণের আগে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।