নেত্রকোনার কংস নদের তীরে ভাঙন

ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটা ও বাজার

নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কংস এবং এর শাখা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি, গাছপালা ও আবাদি জমি। বর্তমানে চরম হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার ও গ্রামীণ সড়ক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতি ইউনিয়নের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কংস নদের ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে এ ইউনিয়নের বাহিরকান্দা, নওবন্দ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চৌকারকান্দা, সেহড়াউন্দ ও কর্ণখলাসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিপুল পরিমাণ গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে ভাঙন বাড়ে। পানি নেমে যাওয়ার পরও ভাঙনের তীব্রতা কমছে না। ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা বাজারসহ মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির ও বসতভিটা।

এদিকে বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের সাধুয়ারকান্দা এলাকায় কংস নদের শাখা ‘গোলামখালী’ নদীর ভাঙনে সাধুয়ারকান্দা, হাঁটখলা, চানপুর, নতুন শেখেরপাড়া ও দেওপুর গ্রাম চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে নদী তীরবর্তী অনেক ঘরবাড়ি, কবরস্থান নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন রোধে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম জানান, নদে ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে সবসময় আমাদের আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য নদের পাড় ঘেঁষে দ্রুত গার্ডার ওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তৈয়ব আলী জানান, নদের ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন-নিবেদন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

অবশেষে ভাঙন রোধে আশার আলো দেখাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, কংস নদের ভাঙন রোধে এরই মধ্যে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর জন্য দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়েছে, শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।

আরও