রোজা ও কোরবানির ঈদসহ মৌসুমের শেষার্ধে এসব পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ায় দেশীয় সরবরাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে পণ্য তিনটির বাজার।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারিতে পেঁয়াজের আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৩৫-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুনের বাজারও নিম্নমুখী। বর্তমানে দেশী রসুনের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমদানীকৃত রসুনের দামও কমেছে। চীন থেকে আমদানি হওয়া বড় আকারের রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকায়। দুই মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ১৫০-১৬০ টাকায়। এছাড়া দেশে উৎপাদিত আকারে ছোট কোয়ার রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকায়। দেশের পার্বত্য তিন জেলা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আদা উৎপাদন হলেও সিংহভাগ চাহিদাই মেটানো হয় আমদানি দিয়ে। একসময় চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান থেকে আদা আমদানি হলেও বর্তমানে শুধু চীন থেকেই আদা আমদানি হচ্ছে। বিগত কয়েক মৌসুমে আদার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার রেকর্ড থাকলেও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০
টাকায়। এছাড়া আকার ও মানভেদে দেশী আদা পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১৩০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে কয়েক বছর ধরে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে আমদানি শূন্যের কোটায় নেমে এলেও দেশীয় বাড়তি উৎপাদনের কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই দামে পেঁয়াজ লেনদেন হচ্ছে।’
পেঁয়াজের নিম্নমুখী দামের কারণে প্রান্তিক চাষীরা লোকসানে রয়েছেন বলে দাবি করা হলেও আমদানি না হওয়ায় মৌসুমে ভালো দাম পেয়েছেন চাষীরা। আমদানি প্রক্রিয়ায় কঠোর অবস্থান নেয়া হলে আগামীতে দেশী পেঁয়াজই চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে মনে করছেন তিনি।
পাইকারি বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারে আশানুরূপ কমছে না এসব পণ্যের দাম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকায়, দেশী রসুন ৯০-১৪০, আমদানি করা রসুন ১২০-২০০, দেশীয় আদা ১৩০-১৬০ ও আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৮০ টাকায়। পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরার বড় পার্থক্যের কারণ হিসেবে পণ্যের পচনশীল বৈশিষ্ট্যের ফলে সৃষ্ট ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিক্রেতারা। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পণ্য তিনটির দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থিতিশীল থাকায় খুচরা বিক্রেতারা বাড়তি মুনাফা করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের চাহিদা বাড়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে। তবে শীতকালীন মৌসুমে দেশে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবের পরিমাণ বেড়ে গেলেও এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। শীত মৌসুমের শুরুতে আগের মৌসুমে উৎপাদিত মসলাপণ্যের মজুদ ফুরিয়ে এলেও দাম বাড়ে। ওই সময় দেশে সরবরাহ চেইনে ঘাটতির কারণে বাজারে এসব পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার নজিরও রয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে সরকার আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেয়ায় নিত্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের বাজার ভোক্তাদের ক্রয়সীমার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।