সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ শিল্প গ্রুপের অনুসন্ধান গতিশীল করতে অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকাজে নিয়োজিত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়েছে সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে অনুরোধ জানিয়ে ৬ এপ্রিল চিঠি লেখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। একই বিষয়ে অন্যান্য সংস্থাকেও চিঠি লেখা হয় বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলে (জেআইটি) দুদক লিড সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
সিআইআইডির মহাপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠি পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করেছি। ১১ জনকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত করা হচ্ছে।’
সিআইডির প্রধান গাজী জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি।’
দুদককে লেখা চিঠিতে বলা হয়, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে গত ১০ মার্চ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সমন্বয় জোরদার করার জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সভায় যৌথ তদন্ত দলের কর্মকর্তারা জানান, ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসের পাশাপাশি তাদের দাপ্তরিক অন্যান্য কার্যক্রম থাকায় ওই কেইসে পর্যাপ্ত সময় দেয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে নিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেইসে নিয়োজিত রাখতে টাস্কফোর্সের সভায় সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে একটি অনুরোধপত্র পেয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এখন থেকে প্রতি মাসে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয় নিয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
চিঠিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তদন্ত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করা হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, প্রকাশিত শ্বেতপত্রের তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনা, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সুপারিশের আলোকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১১টি অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এ যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলে দুদক লিড সংস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং সিআইডি, সিআইসি ও সিআইআইডি থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মনোনীত করে যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিএফআইইউ ওই অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয় করছে।