কুমিল্লা সদর, চৌদ্দগ্রাম, কোতোয়ালি ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই নেতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপতৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতিটি ইউনিট নিয়মিত অভিযান শুরু করেছে। আজ দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া কিশোররা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মারামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কোতোয়ালি থানা এলাকার স্ম্যাশ স্কোয়াড গ্রুপের জিসান ও সাইফুল ইসলাম। জিসান নগরীর তেলিকোনা এলাকার জিলানীর ছেলে এবং সাইফুল শহরতলীর আড়াইওড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১২০৭ গ্যাংয়ের সদস্য মো. তারেক হোসেন সৈকত ও মো. জাফর আহমদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তারেক নলিশ্বর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে এবং জাফর কোমারডোগা গ্রামের মো. আলীর ছেলে। এছাড়া মনোহরগঞ্জ উপজেলার পিএক্স ১০ গ্রুপের সদস্য মো. শাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি পোমগাঁও গ্রামের তবু মিয়ার ছেলে।
এদিকে গতকাল রোববার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ওই উপজেলার কিশোর গ্যাংয়ের দুই নেতাকে গ্রেফতার করে বলে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ কিশোর গ্যাংবিরোধী সমন্বিত অভিযান শুরু করে। গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত পাঁচ দিনের পৃথক অভিযানে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত দুই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে ১ হাজার ২০৯ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। ছেড়ে দেয়া এই সদস্যদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।