চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে প্রতি বছরই মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে প্রতি বছরই মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ৩০ এপ্রিল। ১ মে থেকে মাছ ধরতে নদীতে ফিরে যান জেলেরা। তবে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেদের জালে। অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। চাঁদপুর বড় স্টেশনের আড়তে ক্রেতারা ভিড় করলেও ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে। ইলিশের সরবরাহ যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির দিনে বড় স্টেশন মাছঘাটে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা বাড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা আসেন। তবে ইলিশের সরবরাহ একেবারে কম। এ ঘাটে যেখানে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো, এখন সেখানে ৭০-১০০ মণে দাঁড়িয়েছে। ইলিশ কম, তারপর আবার ক্রেতারা দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন।

শহরের পাল বাজার, নতুন বাজার, ওয়্যারলেস মোড়, বিপণীবাগ, পুরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব স্থানেও ইলিশের সরবরাহ কম। ছোট আকারের ইলিশ প্রতি কেজি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা। সরবরাহ কম হওয়ায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। গতকাল যেসব মাছ এসেছে অধিকাংশই উপকূলীয় অঞ্চলের। মেঘনা ও পদ্মার ইলিশ খুবই কম। বর্তমানে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০-৩০০০ টাকায়। ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকায়।

মৎস্যজীবী সফিক জানান, ইলিশের জালে মিলছে অন্য মাছ। বিশেষ করে পোয়া, শিলন, বেলে, চেওয়া, ছোট চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ইলিশ বেশি ধরা পড়লে দাম কমে যাবে।

সদর উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকার জেলে সফিক দেওয়ান জানান, তিনি নদীতে নামলেও পেয়েছেন পোয়াসহ ছোট প্রজাতির কিছু মাছ। ইলিশের দেখা মেলেনি।

মিজানুর রহমান নামে আরেক জেলে জানান, ভোরে নদীতে নেমে ছোট সাইজের কয়েকটি ইলিশ ও পোয়া মাছ পেয়েছেন। বাজারে নিয়ে বিক্রি করে যা পাবেন, তা দিয়ে হয়তো শুধু খরচ উঠবে।

ইলিশ ব্যবসায়ী মোখলেস জানান, পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ চাঁদপুর মাছঘাটে অনেক বেশি আসত। কিন্তু এখন খুব কম আসে। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম, নদীর পানি ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। গতকাল ক্রেতাসমাগম বাড়লেও বিক্রি ছিল কম। অধিকাংশ ক্রেতা দাম যাচাই করে না কিনেই চলে গেছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ‘ইলিশ পরিভ্রমণশীল মাছ। সাগর থেকে নদীতে আসে, আবার সাগরে চলে যায়। সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম। বৃষ্টি হলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে।’

আরও