স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

ফেনীর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে পরীক্ষার আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯২ শিক্ষার্থীর এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। তাদের পরীক্ষার বোর্ড ফি বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য ডিসেম্বরের শেষের দিকে স্কুলের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মিহির ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। কয়েক মাস পরও ওই টাকা বোর্ডে জমা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখেননি প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা। বুধবার ফেনীর অন্যান্য স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র না আসায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র না আসার কারণ খুঁজতে গিয়ে ফি পরিশোধ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। বিষয়টি জানার পর স্কুলে জরুরি সভায় বসেন শিক্ষকরা। তারা স্কুলের কোচিংয়ের টাকা থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়ে দ্রুত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। বিষয়টি সমাধান করতে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দুপুরের মধ্যেই শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছেন। সেখানে তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্টদের টেবিলে টেবিলে দৌড়ঝাঁপ করে প্রবেশপত্র পাওয়ার আশ্বাস পেলেও নিশ্চিত সমাধান পাননি।

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অফিস সহকারী মিহির বোর্ড ফি পরিশোধের জমার ভাউচারটি খুঁজে পাচ্ছেন না বলে তাকে জানান। কিন্তু তিনি টাকাগুলো জমা দেননি—এমনটা তারা ভাবতে পারেননি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে মিহির তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তিনি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার বৃহস্পতিবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জরিমানাসহ বোর্ড ফি জমা দিলে প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করবেন বলে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, কিছুটা দেরি হলেও বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা জানান, এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড ফি জমা হয়নি—এমন তথ্য প্রধান শিক্ষক তাকে জানাননি। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

আরও