আটকে আছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা, বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে অধোগতি

দেশে বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার ক্রমেই নিম্নমুখী। ২০২৫ সাল শেষে বীমা খাতে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে জীবন বীমা খাতে ৩৩ শতাংশ ও সাধারণ বীমা খাতে ৭১ শতাংশ দাবি অনিষ্পন্ন ছিল। দাবি নিষ্পত্তির এ নিম্নমুখী হার পুরো আর্থিক খাতের জন্যই বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থার সংকট দিন দিন আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার মোট সম্পদের একটি ক্ষুদ্র অংশ বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন গঠন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি প্রশমনে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। অথচ আস্থা সংকটের কারণে বীমা খাতের অবস্থান আরো তলানির দিকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি প্রতিবেদন ২০২৫-এর তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে সাধারণ বীমা খাতের বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৪১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৫ সাল শেষে এটি আরো কমে ২৮ দশমিক ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ২০২৩ সালে জীবন বীমা খাতে বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যা ২০২৫ সাল শেষে ৬৬ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অনিরীক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ২০২৫ সাল শেষে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বীমা খাতে এ সময়ে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বীমা খাতে মোট অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯১২ কোটি টাকায়।

জীবন বীমা খাতের গড় দাবি নিষ্পত্তির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও কোম্পানিভেদে পরিসংখ্যানগত বড় পার্থক্য রয়েছে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি সময়মতো দাবি পরিশোধ করলেও গুটি কয়েক বড় এবং সংকটে থাকা কোম্পানির তারল্য ঘাটতির কারণে হাজার হাজার গ্রাহকের দাবি বছরের পর বছর বকেয়া থাকছে। আইডিআরএর অনিরীক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, জীবন বীমা খাতে মোট অনিষ্পন্ন পলিসির সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬। তবে বিশাল বকেয়া দাবির প্রায় ৯০ শতাংশেরই দায়ভার এককভাবে মাত্র পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানির। এটি পুরো খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থার সংকট তৈরি করছে।

দেশে সাধারণ বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তির হার ঐতিহাসিকভাবেই কম। জটিল আইনি প্রক্রিয়া, জালিয়াতি শনাক্তকরণে দীর্ঘসূত্রতা এবং জরিপকারীদের মূল্যায়নে বিলম্বের কারণে বাণিজ্যিক দাবিগুলো সময়মতো পরিশোধ হচ্ছে না, যা দেশের উৎপাদনশীল খাতের ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণ বীমা খাতে মোট ৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাধারণ বীমা করপোরেশন এককভাবে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নিষ্পত্তি করতে পেরেছে, যার হার মাত্র ১২ শতাংশ।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাধারণ বীমা খাতে বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার বাস্তবে যতটা খারাপ দেখাচ্ছে, পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়। কারণ আইডিআরএ যে পদ্ধতিতে এ হিসাব করে, সেখানে বীমা দাবি করার পর থেকেই সময় গণনা শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিশেষ করে ফায়ার ব্রিগেড রিপোর্ট বা সার্ভেয়ার রিপোর্ট পেতে অনেক সময় ৯০ দিনের বেশি লেগে যায়, যা বীমা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে পরিসংখ্যান বাস্তব চিত্র পুরোপুরি তুলে ধরে না। আরেকটি বড় বিষয় হলো সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে অনেক সময় দাবির সংখ্যা দিয়ে অনুপাত হিসাব করা হয়, অর্থের পরিমাণ দিয়ে নয়। এছাড়া বড় দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সাধারণ বীমা করপোরেশনের কাছ থেকে রিকভারি পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। যা দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে জীবন বীমার ক্ষেত্রে সমস্যার ধরন আলাদা। কয়েকটি দুর্বল ও বড় কোম্পানির খারাপ পারফরম্যান্স পুরো শিল্পের গড় বীমা দাবির অনুপাতকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। বেশকিছু কোম্পানি আছে যাদের বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার ৯০-৯৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বীমা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মানুষের উদ্বৃত্ত সঞ্চয়ের ওপর। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রবণতা কমে যাওয়ায় জীবন বীমা খাতের প্রথম বর্ষের প্রিমিয়াম আয় প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ হয়েছে। একই সঙ্গে আগে চালু থাকা পলিসিগুলোর ম্যাচিউরিটি বা প্রিমিয়াম নবায়নের হার হ্রাসের প্রবণতা দেখা গেছে, যা জীবন বীমা তহবিলের ধারাবাহিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেশের শিল্প উৎপাদন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং বৃহৎ অবকাঠামো খাতের সঙ্গে সাধারণ বীমা সরাসরি যুক্ত। ডলার সংকট ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের ফলে অগ্নি, নৌ এবং মোটর বীমা থেকে গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহের ওপর এক ধরনের স্থবিরতা বা ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।

বীমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের একটি বড় অংশ দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রা বাজারে বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ থেকে আয়ের হারও সংকুচিত হয়েছে। বীমা আইন অনুযায়ী জীবন বীমা তহবিল এবং সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য সরকারি সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বন্ডে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। উচ্চ সুদহারের কারণে বন্ড থেকে রিটার্ন ভালো এলেও তা কোম্পানিগুলোর তাৎক্ষণিক তারল্য চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারছে না। বীমা খাতের মোট বিনিয়োগের একটি বিশাল অংশ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্থায়ী আমানত বা এফডিআর হিসেবে জমা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে তীব্র তারল্য সংকট এবং অনিয়মের কারণে বেশকিছু বীমা কোম্পানির শত শত কোটি টাকার এফডিআর আটকে গেছে। ফলে কোম্পানিগুলো চাইলেও ব্যাংক থেকে টাকা তুলে গ্রাহকের দাবি মেটাতে পারছে না, যা বীমা খাতে পদ্ধতিগত তারল্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারের দরপতন এবং দীর্ঘমেয়াদি ফ্লোর প্রাইস ও মন্দা ভাবের কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের মূলধনি লোকসান হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাঈন উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বীমা দাবি নিষ্পত্তির হার কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, বীমা খাতের ওপর আস্থার সংকট দীর্ঘদিনের, ফলে গ্রাহকের ধারাবাহিকতা কমছে। দ্বিতীয়ত, কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে সংগৃহীত প্রিমিয়াম কতটা কার্যকরভাবে বিনিয়োগ করা হচ্ছে তার ওপর। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তহবিল তসরুপ বা দুর্বল বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার কারণে সে সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা সরাসরি দাবি পরিশোধে প্রভাব ফেলে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবি নিষ্পত্তিতে গড়িমসি করার প্রবণতাও রয়েছে। এ জায়গায় আইডিআরএর তদারকি ও নজরদারি দুর্বল হওয়ায় সমস্যাগুলো আরো গভীর হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বীমা খাতকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেয়া হয়, ফলে অনিয়মকারীরা জবাবদিহির বাইরে থেকে যায়। সাধারণ বীমা খাতে অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও পুনঃবীমা দাবি নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ার কারণে বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে। তবে জীবন বীমার ক্ষেত্রে এ ধরনের বাহ্যিক জটিলতা তুলনামূলক কম। তাই সেখানে দাবি নিষ্পত্তির হার কমে যাওয়াটা অনেকাংশেই অবহেলা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা কিংবা তহবিল অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ দুই খাতেই কিছু কাঠামোগত সমস্যা থাকলেও সামগ্রিকভাবে সুশাসনের ঘাটতি ও আর্থিক দুর্বলতাই দাবি নিষ্পত্তি কমে যাওয়ার মূল কারণ।’

একটি বীমা কোম্পানি আকস্মিক কোনো বড় বিপর্যয় বা দাবি পরিশোধ করতে কতটা সক্ষম, তা পরিমাপ করা হয় সলভেন্সি মার্জিনের মাধ্যমে। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং প্রিমিয়াম আয়ের মন্দার কারণে অনেক বীমা কোম্পানির সলভেন্সি মার্জিন আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে নিচে অবস্থান করছে। দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিল্প বা সামুদ্রিক ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ঝুঁকি ধারণক্ষমতা কম। ফলে তারা রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং আন্তর্জাতিক রি-ইন্স্যুরেন্স (পুনঃবীমা) কোম্পানিগুলোর ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল, যা বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আস্থাহীনতার কারণে দেশে বীমার বিস্তার ক্রমশ আরো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ২০২১ সালে দেশে বীমার বিস্তারের হার ছিল দশমিক ৪২ শতাংশ। এরপর প্রতি বছরই এটি ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং সর্বশেষ ২০২৫ সাল শেষে দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বীমার বিস্তারের পাশাপাশি বীমার ঘনত্বের দিক দিয়েও বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সাল শেষে দেশে জনপ্রতি গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৪ টাকায়।

আইডিআরএর সদস্য মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জীবন বীমার ক্ষেত্রে সামগ্রিক দাবি নিষ্পত্তির হার কমে যাওয়ার বড় কারণ হলো কয়েকটি সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানি পুরো শিল্পের গড়কে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অনিষ্পন্ন দাবি পুরো খাতের পরিসংখ্যানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তবে অধিকাংশ জীবন বীমা কোম্পানির অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। অন্যদিকে সাধারণ বীমার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে দাবি নিষ্পত্তি দুইভাবে দেখা হয়—সংখ্যার ভিত্তি এবং অর্থমূল্যের ভিত্তিতে। সংখ্যার দিক থেকে নিষ্পত্তির হার তুলনামূলক ভালো হলেও বড় অংকের দাবির ক্ষেত্রে অর্থমূল্যের ভিত্তিতে হার কমে যায়। এর পেছনে বড় কারণ হলো পুনঃবীমার ওপর নির্ভরতা। বাংলাদেশের বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো বাধ্যতামূলকভাবে সাধারণ বীমা করপোরেশনের সঙ্গে পুনঃবীমা করে থাকে। কিন্তু অনেক কোম্পানির প্রিমিয়াম বকেয়া থাকায় বড় দাবির রিকভারি বিলম্বিত হয়, ফলে গ্রাহক পর্যায়ে নিষ্পত্তিও দেরি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত কমিশনভিত্তিক অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চাও সাধারণ বীমা খাতকে দুর্বল করেছে। এতে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাবি পরিশোধের সক্ষমতা কমে যায়। দাবি নিষ্পত্তির হার কম হওয়াটা বীমা শিল্পের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কারণ এ আস্থাহীনতার কারণে দেশে বীমার বিস্তার বাড়ছে না। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে নিয়ে নিয়মিত কাজ করছে, যদিও সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অতিরিক্ত সংখ্যক দুর্বল কোম্পানির কারণে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।’

আরও