খুলনা মহানগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন এলাকায় গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে আহত হয়েছেণ এক যুবদল নেতা ও এক ব্যবসায়ী। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বেসরকারি ক্লিনিক। গতকাল এসব ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরের বাবুখান রোডে অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা, গুলি ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত ক্লিনিকের সামনে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এরপর তারা ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে অধ্যাপক ডা. কুতুব উদ্দিন মল্লিকের চেম্বার ও অভ্যর্থনাকক্ষে ভাংচুর চালায়। এসময় ক্লিনিকজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর পুলিশের সদর জোনের সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িত যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরের দক্ষিণ টুটপাড়ার গাছতলা মন্দিরের সামনে গুলিতে গুরুতর আহত হন ধনঞ্জয় কুন্ডু ওরফে আকাশ কুন্ডু (৪৫)। তিনি স্থানীয় গাছতলা মন্দির মোড় এলাকার একজন মুদি ব্যবসায়ী।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত দক্ষিণ টুটপাড়ার ২ নম্বর ক্রস রোডের গাছতলা মন্দিরের সামনে আসে। এর পর তারা ধনঞ্জয়কে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার পেটে লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন জানান, কারা এবং কী কারণে গুলি চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে।
এছাড়া বেলা ১১টার দিকে জেলার তেরখাদা উপজেলার পারহাজীগ্রামে গুলিতে গুরুতর আহত হন মো. রামীম বিশ্বাস (৩২) নামের এক যুবদল নেতা। সেনেরবাজার-মধুপুর সড়কের পারহাজীগ্রামে খান ব্রিকসের কাছে আয়নাল মোল্লার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
রামীম বিশ্বাস পারহাজীগ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
তেরখাদা থানার ওসি আহমেদ আলী বিশ্বাস বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।