২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল

ইউরোপ-যাত্রায় ৯ রুটে প্রাণ গেছে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর

ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক থেকে নৌকায় উঠেছিলেন ৩৮ বাংলাদেশী। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছার লক্ষ্য ছিল রাবারের নৌকাটির।

কিন্তু মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই টানা ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকেন আরোহীরা। এর মধ্যে মারা যান ৯ বাংলাদেশী। তাদের সবার মরদেহ ফেলে দেয়া হয় সাগরেই। বেঁচে থাকা বাকি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছলে পুলিশ তাদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান। ‌আর গত ১৬ আগস্ট একই উপকূল থেকে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিবিয়ার উপকূল থেকে ২০২৪ সালের এক রাতে নৌকায় উঠেছিলেন এক বাংলাদেশী তরুণ। পরিবারের কাছে তার শেষ বার্তা ছিল—‘ইতালি পৌঁছলে ফোন দেব।’ এরপর আর কোনো ফোন আসেনি। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যরা দালাল, পরিচিতজন ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি তিনি ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছেন, নাকি কোনো অজ্ঞাত পথে হারিয়ে গেছেন। পরিবারের কাছে তিনি আজও নিখোঁজ।

এটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়, অবৈধ বা অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে এমন পরিণতির শিকার হয়েছেন হাজারো বাংলাদেশী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ডেটাবেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের নয়টি অনিয়মিত অভিবাসনপথে ঘটে যাওয়া ৮৪টি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩২৯ বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং আরো ৮৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অর্থাৎ গত এক দশকে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর কোনো না কোনোভাবে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এ মৃত্যুর মানচিত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর পথটি ভূমধ্যসাগর। লিবিয়া বা তিউনিসিয়া থেকে এ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছার চেষ্টায় ১ হাজার ১৭১ বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং নিখোঁজ হয়েছেন ৭৭৩ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যু ও নিখোঁজের প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে শুধু এ রুটে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ-যাত্রায় ভয়াবহতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০১৫ সাল। ওই বছর মাত্র চারটি ঘটনায় ৯২৪ বাংলাদেশী নিহত ও ৩৬৩ জনকে নিখোঁজ হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ফলে এক বছরেই এ রুটে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৮৭-এ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এ সংখ্যা প্রকৃত চিত্রের চেয়ে কম। কারণ সমুদ্রপথে অনেক নৌযান নিখোঁজ হলেও যাত্রী বা মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। আইওএমের ভাষ্য অনুযায়ীও অভিবাসনপথে মৃত্যু ও নিখোঁজের তথ্য সংগ্রহে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রে নিখোঁজদের সংখ্যা নিরূপণ অত্যন্ত কঠিন।

অভিবাসনের স্বপ্নে যারা দেশ ছাড়েন, তাদের কাছে ইউরোপ অনেক সময় শুধু একটি গন্তব্য নয়; পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতিশ্রুতি। জমি বিক্রি, ঋণ নেয়া কিংবা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অনেকেই দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশে পৌঁছান। এরপর শুরু হয় ইউরোপের উদ্দেশে বিপজ্জনক এ যাত্রা।

সবাই অবশ্য সাগরে পৌঁছতে পারেন না। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়েই অন্তত ৩৮ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকা বা আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছার পথে মারা গেছেন আরো একজন, নিখোঁজ হয়েছেন ২২ জন। তুরস্ক-ইউরোপ স্থলপথে ২০ বাংলাদেশীর মৃত্যুর তথ্যও নথিভুক্ত হয়েছে।

তথ্যগুলো দেখায়, অনিয়মিত অভিবাসনের বিপদ শুধু নৌকাডুবি বা ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের পথে যাত্রা শুরু হওয়ার পর মরুভূমি, সীমান্ত, মানব পাচারকারী চক্র এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই অনেকের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আরো কয়েকটি পথেও বাংলাদেশীদের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট বা অন্যান্য দ্বীপে যাওয়ার পথে পাঁচজন মারা গেছেন। ইরান হয়ে তুরস্ক ও ইতালি থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পথেও মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

তবে সংখ্যার বাইরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—নিখোঁজদের কী হয়েছে? আইওএমের হিসাবে ৮৫৯ জন নিখোঁজ। তাদের অনেকের মরদেহ হয়তো কখনো উদ্ধার হয়নি, আবার কেউ কেউ এমন কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, যার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। ফলে পরিবারের জন্য স্বজনের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পাওয়ার সুযোগও থাকে না। অপেক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র বাস্তবতা।

এ চিত্র বাংলাদেশের অনিয়মিত অভিবাসনের আরেকটি অন্ধকার দিক সামনে আনে। ইউরোপে পৌঁছতে না পারার ব্যর্থতার হিসাব যেমন নেই, তেমনি মৃত্যুর পরও অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। ফলে সরকারি নথি, আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে ব্যবধান থাকার আশঙ্কাও থেকে যায়।

মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মিসরে সাতটি ঘটনায় ৭০ বাংলাদেশীকে নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা ভূমধ্যসাগরে হারিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ তিনদিন, কেউ চারদিন ভাসমান ছিলেন; সে অবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করেছে।’

সম্প্রতি আইওএমের প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ওভারভিউ অব মাইগ্রেশন রুটস’ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ভূমধ্যসাগর রুটে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীরা শীর্ষ। এ সময়ে মোট ৮ হাজার ৫৭৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী এ রুট ব্যবহার করে দেশটিতে পৌঁছেন, যার ৩০ শতাংশের উৎস দেশ বাংলাদেশ। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ৩৭ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শতাংশের হিসাবে কিছুটা কমলেও মূল উৎস হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এ রুটটি মূলত উত্তর আফ্রিকার দেশ, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে পশ্চিম বলকান রুটে আটটি ঘটনায় ৯ বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। এ রুটে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তর মেসিডোনিয়া, স্লোভেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সার্বিয়া ও আলবেনিয়ায় বাংলাদেশীদের মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগর রুটেও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রুটটি মূলত তুরস্ক থেকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের দিকে যাওয়া সমুদ্রপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

‘গ্লোবাল ওভারভিউ অব মাইগ্রেশন রুটস’ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগর রুটে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশী অভিবাসীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলে এ পথ ব্যবহার করা অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ ছিল বাংলাদেশী, যা চলতি বছরের একই সময়ে ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূলত তুরস্ক বা লিবিয়া থেকে এ সমুদ্রপথ গ্রিসে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো রুটের উল্লেখ নেই এমন পথেও বাংলাদেশী মৃতের সংখ্যা ৮৩ ও নিখোঁজ ৬৪ জন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অবৈধ পথ ব্যবহার করে ইউরোপে যাওয়ায় বাংলাদেশীরাই শীর্ষে। তাছাড়া অনিয়মিত অভিবাসনপথে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো দেশই নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গভাবে তথ্য প্রকাশ করে না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড, এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বড় দুর্ঘটনার পর কতজন নৌযানে ছিলেন, কতজন উদ্ধার হয়েছেন এবং কতজন নিখোঁজ—এসব তথ্য নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। অনেক নৌযান আবার কোনো উদ্ধার অভিযান ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যায়, যেগুলোকে আইওএম ‘ইনভিজিবল শিপরেকস’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই ২০১৫ থেকে ২০২৫ সময়ে পাওয়া ২ হাজার ১৮৮ জনের মৃত ও নিখোঁজের হিসাবকে চূড়ান্ত সংখ্যা নয়, বরং নথিভুক্ত ন্যূনতম সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অভিবাসন ও শরণার্থী বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশী অভিবাসীদের মৃত ও নিখোঁজের নথিভুক্ত যে তথ্য এটি একটি ন্যূনতম নিশ্চিত সংখ্যা মাত্র, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। অনেকে বিভিন্ন দেশের বৈধ ভিসা নিয়ে দেশ ছাড়লেও প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে ইউরোপে পৌঁছা, আর এটি রেগুলেট করা কঠিন, কারণ ভিসা কাগজে-কলমে বৈধ থাকে। মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত তরুণরাও ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করে ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাওয়াকে প্রায় স্বাভাবিক ও নিশ্চিত পথ হিসেবে দেখছে। আবার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি অংশ কোড নাম্বার বা সংকেতের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের শিথিলভাবে ছেড়ে দেয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একক দেশের প্রচেষ্টায় এ চক্র বন্ধ হবে না—আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় ও আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়া পাচারকারীরা ধরা পড়লেও নতুন চক্র পুনরায় কাজ শুরু করে।’

সমাধান হিসেবে তিনটি পদক্ষেপের কথা বলেন আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বৈধ ভিসা থাকলেও তার গন্তব্য কোথায় সেটা বোঝার মতো সক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের রয়েছে। এছাড়া ব্যাপক সচেতনতা প্রচারণা জরুরি; যাতে মানুষ বুঝতে পারে এ পথ অবৈধ ও বিপজ্জনক। সেই সঙ্গে ইন্টারপোল ও ট্রানজিট দেশগুলোর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’

আইওএমের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং মেট্রিক্সের তথ্যমতে, চলতি বছর ২৭ জুলাই পর্যন্ত স্থল ও সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করেছেন ৭ হাজার ৯৬৯ বাংলাদেশী। সংস্থাটির ‘বাংলাদেশ মাইগ্রেশন স্ন্যাপশট রিপোর্ট’-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্থল ও সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন ২৪ হাজার ৩১৮ বাংলাদেশী, ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩০৪। ২০২৩ সালে গেছেন ১৩ হাজার ৭৭৩ জন, ২০২২ সালে ১৬ হাজার ৪৮৭ এবং ২০২১ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৭ হাজার ৯৫৫ ও ৪ হাজার ৫১০ জন। অনিয়মিত পথে ইউরোপে পাড়ি জমানো এসব বাংলাদেশীর বেশির ভাগই মানব পাচারের শিকার।

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশীরাই সবচেয়ে বেশি। এ পথটি সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট নামে পরিচিত। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ পথে অবৈধভাবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশী ইউরোপে প্রবেশ করেন।

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধ করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘অতি দ্রুত ধনী হওয়ার জন্য মানুষ অবৈধ উপায়ে ইউরোপের ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াচ্ছে। তবে অবৈধ অভিবাসনের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। যেসব এলাকার মানুষ এ ধরনের পথে বেশি যাচ্ছে সেখানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেসব এজেন্সি মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি একা বাংলাদেশের পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। কারণ এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রও জড়িত, যারা বিভিন্ন দেশ থেকে বড় একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজগুলো করছে।

বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধিসহ বন্ধ শ্রমবাজার চালুর চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জায়গা থেকে বৈধ পথে প্রবাসে যেতে প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে যারা প্রবাসে যাচ্ছে তাদের ন্যূনতম একটা স্কিলে প্রশিক্ষিত করা এবং ওয়েলফারটা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের একটা টার্গেট আছে। সরকারের জায়গা থেকেও বৈধভাবে বিভিন্ন দেশে কীভাবে সুযোগ তৈরি করে দেয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

আরও