গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে আজমতপুর হয়ে নরসিংদীর ইটাখোলা সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কটি যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। কোথাও রাস্তার পাশ দেবে গিয়ে সংকুচিত হয়েছে সড়ক। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও খানাখন্দের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মাত্র আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে কোথাও কোথাও লাগছে কয়েক ঘণ্টা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী ও গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ৪০ দশমিক ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। তবে চরসিন্দুরে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর সেতু না থাকায় সড়কটি পুরোপুরি চালু হয়নি। ২০১৬ সালের এপ্রিলে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণ শেষে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সড়কটি পুরোদমে চালু হয়। এর মধ্যে গাজীপুর অংশ ২৮ দশমিক ১৪ কিলোমিটার এবং নরসিংদী অংশ ১১ দশমিক ৮৭৮ কিলোমিটার।
সড়কটি চালুর পর গাজীপুর থেকে সরাসরি নরসিংদীর ইটাখোলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর চাপও কমে। প্রতিদিন এ পথে গাজীপুর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেটমুখী বিপুলসংখ্যক মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যান চলাচল করে।
গতকাল সরজমিনে দেখা গেছে, হানকাটা ব্রিজ থেকে চরসিন্দুর সেতু হয়ে ইটাখোলা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আমতলী থেকে নরুন বাজার এবং দেওতলা এলাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। দেওতলা থেকে আজমতপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কের বড় অংশ প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। বাঙালগাঁও, দুবরিয়া, রাথুরা, নোয়াপাড়া, বাঘুন ও মৈশারবাজারেও সড়কের অবস্থা নাজুক।
আমতলী বাজারের উত্তর পাশে বড় গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। নিমুরিয়া থেকে মারতা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন অংশও ভাঙাচোরা। আজমত, দুবরিয়া, নোয়াপাড়া ও মারতা এলাকায় রাস্তার পাশ দেবে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছিল। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা মারতা মধ্যপাড়া এলাকায় ইট ও সুরকি দিয়ে গর্ত ভরাট করছিলেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ২০-২৫টি স্থানে এভাবে জরুরি মেরামত করে যান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ১০-১৫ ফুট পরপর বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁকে সতর্কীকরণ সংকেত বা গতিরোধক নেই। গত কয়েক মাসে মহাসড়কের বিভন্ন জায়গায় পিকআপ, ট্রাক ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে সড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গাজীপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমদ বলেন, ‘চান্দনা চৌরাস্তা থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত অংশ বিআরটি কর্তৃপক্ষ এবং সেখান থেকে হানকাটা ব্রিজ পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। গাজীপুর অংশের বাকি ২৪ কিলোমিটারের মধ্যে তিন বছর আগে ১২ কিলোমিটার মেরামত করা হয়েছে। বাকি ১২ কিলোমিটার মেরামতের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হতে আরো তিন-চার লাগতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘যান চলাচল সচল রাখতে বর্তমানে রুটিন সংস্কার চলছে। নিয়মিত ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত ও আধুনিকীকরণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’