ক্লায়েন্ট স্টেটের অবস্থায় আমরা যেন কখনো ফিরে না যাই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ও আহতরা আমাদের যে ঐতিহাসিক দায়িত্বটা দিয়ে গেছেন, সেটা পালন করার মতন সক্ষমতা আমাদের আছে। শুধু সক্ষমতা না, আমাদের স্পৃহা এবং ইচ্ছাটাও আছে। সেটা আমরা এ ইউএনজি প্রেসিডেন্স ইলেকশনে দেখেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে কখনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। ক্লায়েন্ট স্টেটের অবস্থায় আমরা যেন কখনো ফিরে না যাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতরা যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, তা পালনের সক্ষমতা, স্পৃহা ও ইচ্ছা বাংলাদেশের রয়েছে।

আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সময় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের একটা বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশকে একটা ক্লায়েন্ট স্টেট হিসেবে দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদরা ও আহতরা আমাদের যে ঐতিহাসিক দায়িত্বটা দিয়ে গেছেন, সেটা পালন করার মতন সক্ষমতা আমাদের আছে। শুধু সক্ষমতা না, আমাদের স্পৃহা এবং ইচ্ছাটাও আছে। সেটা আমরা এ ইউএনজি প্রেসিডেন্স ইলেকশনে দেখেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টা আমাদের আগামীতে জারি রাখতে হবে। আমরা যেন মনে রাখি, প্রধানমন্ত্রী আজ যে ক্লায়েন্ট স্টেটের কথা বললেন, ওই অবস্থাতে যেন আমরা কখনো ফিরে না যাই। এর জন্য ফ্রন্ট লাইনে আমরা জুলাইয়ের যে কজ, সেটা আগামী দিনগুলোয় এগিয়ে নিতে আমাদের যে দায়িত্ব, সেটা আপনারা কেউ ভুলবেন না। প্রতিনিয়ত মনে রাখবেন।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকে যখন প্রফেসর ইউনুস তার সরকারে যোগ দিতে বললেন, আমি যোগ দেয়ার দিন তার সঙ্গে দেখা করিনি। প্রথম আমি গেছি হাসপাতালে আহতদের দেখতে। ফিরে এসে তাকে বলেছি, স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই, আমরা কি অবস্থায় তাদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।

তিনি আরো বলেন, এ কথাটি যেন আমরা সবাই মনে রাখি। আমাদের এ দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো প্রবল একটা লড়াইয়ে একটা ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনে আমাদের হাতে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশটাকে যেন আমরা আমাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আমাদের কাজ দিয়ে, আমাদের ডেডিকেশন দিয়ে, আমাদের মেধা দিয়ে, প্রজ্ঞা দিয়ে আগলে রাখতে পারি, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের ফরেন সার্ভিসের যে দায়িত্ব, এটা আমরা কখনো ভুলব না। এবং আপনারা প্রতিটি মুহূর্তে এ কথাটি মনে রাখবেন যে, আমাদের হাতে একটা বড় ধরনের দায়িত্বভার এ শহীদরা দিয়ে গেছে।

আরও