সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলেকে পাঁচ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও দুই কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে নদীতে অভিযান চালায়। এ সময় ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের পাঁচ দিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পদ্মা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতু বলেন, এ বছর মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে বা ইলিশ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, অতীতে জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে ইলিশ শিকার করতেন। বর্তমান বিএনপি সরকার এ ধরনের সুযোগ দেবে না। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। ফলে এ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। কেউ নিয়ম না মানলে প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন।