যোগাযোগ ও চিকিৎসা সংকটে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিপুলিয়ার চরাঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগ অবকাঠামো না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দুর্গম এ জনপদে কোনো হাসপাতাল কিংবা চলাচলের রাস্তা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে কাঁধে ঝোলানো প্লাস্টিকের চেয়ার বা জলচৌকিই একমাত্র ভরসা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়ার চর থেকে জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এ এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যানগাড়ি চলাচলের মতোও কোনো পথ নেই। মাইলের পর মাইল বালুচর ও ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছাতে হয়।

ফলে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বাঁশ ও রশির সাহায্যে প্লাস্টিকের চেয়ারে বেঁধে কাঁধে করে নদী পর্যন্ত নিয়ে যান স্বজনরা। এরপর নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে অনেক সময় ৪-৫ ঘণ্টা লেগে যায়।

সরজমিনে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি কাঁধে একটি বাঁশ তুলে তার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝোলানো চেয়ারে এক অসুস্থ শিশুকে নিয়ে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিচ্ছেন। স্বজনদের চোখেমুখে তখন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌শুকনো মৌসুমে বালুর কারণে হাঁটা যায় না, আর বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু মাঝরাতে কেউ অসুস্থ হলে কোনো সাহায্য পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আমাদের জন্য চিকিৎসা মানেই এক ধরনের যুদ্ধ।’

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, এখানে নেই কোনো কার্যকর কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী। সামান্য জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা প্রসবকালীন জটিলতায় গর্ভবতী নারীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। অনেক সময় নদী পার হওয়ার আগেই রক্তক্ষরণ বা অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু ঘটে।

ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের এ বঞ্চনা দীর্ঘদিনের। একটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও জরুরি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা এখন সময়ের দাবি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা না গেলে এ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়।’

‎চরের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনসহ বসে একটি পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

‎এ বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘‌চরগুলো ছড়ানো-ছিটানো হওয়ায় এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। চরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে আগামীতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হবে।’

আরও