তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণায় মুখর ছিল জাতীয় আইডিয়া পিচিং প্রতিযোগিতা আকিজ রিসোর্স প্রেজেন্টস ক্রিয়েভেঞ্চার ৪.০-এর কোয়ার্টার ফাইনাল। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (ডিইউইডিসি) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ৬২টি জেলা থেকে ৩৪৮টিরও বেশি নিবন্ধনের মধ্য থেকে বাছাই করা ৩৩টি দল অংশ নেয়।
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ছিল আকিজ রিসোর্সেস এবং কো-স্পন্সর হিসেবে ছিল এসিআই লজিস্টিকস (স্বপ্ন)। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব উদ্যোক্তা উদ্যোগে রূপ দিতে প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও প্রতিযোগিতার সমন্বয়ে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান এবং ডিইউইডিসির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ক্রিয়েভেঞ্চার শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি তরুণদের জন্য উদ্ভাবন, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে।
ডিইউইডিসির সভাপতি সিফাত আল রশিদ বলেন, আইডিয়া অনেকেরই থাকতে পারে, কিন্তু সফলতা নির্ভর করে তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা সফল হতে পারেন।
প্রতিযোগিতার মেন্টরিং ও মূল্যায়ন পর্বে করপোরেট ও স্টার্টআপ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিচারক ও মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলালিংক ডিজিটাল লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি সুমাইয়া তাসনিম আদিবা, মাহতাবস্ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ মাহতাব আবদুল্লাহ মনজুর, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌশিক হোসাইন পিয়াল, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি মাইশা ইসলাম মোনামী এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েট তানজিমা তাহরিম।
মূল পিচিং পর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলো পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং, কৃষি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গ্যাস নিরাপত্তা, ডিজিটাল পেমেন্ট সুরক্ষা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নেভিগেশন প্রযুক্তিসহ নানা উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে। বিচারকরা প্রতিটি আইডিয়ার উদ্ভাবন, বাজার সম্ভাবনা, সামাজিক প্রভাব এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন।
এবারের প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ হলো অ্যাসেনশন পাস, যার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ১০টি দল সরাসরি সেমিফাইনালে উন্নীত হয় এবং বিশেষ মেন্টরশিপের সুযোগ পায়। পরে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত অকশন রাউন্ড থেকে আরও ১০টি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফলে মোট ২০টি দল পরবর্তী পর্বে উত্তীর্ণ হয়।
অকশন রাউন্ড শুরুর আগে ডিইউইডিসির সাধারণ সম্পাদক নিলয় মজুমদার বলেন, দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সামনে একটি বাস্তব উদ্যোক্তা পরিবেশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ক্লাবভিত্তিক এমন উদ্যোক্তা উন্নয়ন উদ্যোগ এখনো বিরল। এটি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিযোগিতা শেষে ফটোসেশন ও নেটওয়ার্কিং পর্বের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। এ সময় অংশগ্রহণকারী, মেন্টর ও আয়োজকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, ক্রিয়েভেঞ্চার হলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি।