ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের একটি বড় অংশই সম্পদের দিক থেকে কোটিপতি। তবে এর পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক সদস্যই ঋণের বোঝা নিয়ে সংসদে যাচ্ছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) হলফনামাভিত্তিক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গবেষক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এসব তথ্য তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রবন্ধে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্পদ, দায় ও পেশাগত অবস্থার চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৩৬ জন কোটিপতি। যা মোট সংসদ সদস্যের ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এদের মধ্যে শতকোটিপতি রয়েছেন ১৩ জন। দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১৮৯ জন কোটিপতি, যা দলটির সংসদ সদস্যদের ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে কোটিপতির সংখ্যা ৩৮ জন, যা ৫৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে কোটিপতি সংসদ সদস্যের সংখ্যা ১৮৪ জন। তাদের ঘোষিত মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পদের মূল্য অনুযায়ী কোটিপতি রয়েছেন ১৬৭ জন। তাদের প্রত্যেকের অন্তত তিনটি দালান, অ্যাপার্টমেন্ট, খামার বা বাগান রয়েছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের ঋণের চিত্রও তুলে ধরেছে টিআইবি। প্রবন্ধ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের প্রায় ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ সদস্য দায় বা ঋণগ্রস্ত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই হার ছিল ৫২ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণগ্রস্তের হার ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা দেশের আগের চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। ঋণের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষ ১০ জন ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্যের সবাই বিএনপির নবনির্বাচিত প্রতিনিধি।
গবেষণায় সংসদ সদস্যদের পেশাগত চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান সংসদের ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে ব্যবসায়ীদের হার ছিল ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। নবম সংসদের তুলনায় ব্যবসায়ীর হার ৩ শতাংশ বেড়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা কমেছে। ত্রয়োদশ সংসদে রাজনীতিবিদের হার ২ শতাংশ। দ্বাদশ সংসদে এই হার ছিল ১০ শতাংশ এবং একাদশ সংসদে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ত্রয়োদশ সংসদে শিক্ষক ও আইনজীবী পেশার সংসদ সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে। এই দুই পেশার হার যথাক্রমে ৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংসদ সদস্যদের আয়ের চিত্রও বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ সদস্যের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি। কোটি টাকার বেশি আয় রয়েছে ৪৮ জন সংসদ সদস্যের। এছাড়া শীর্ষ দশজন আয়ের তালিকার মধ্যে বিএনপির রয়েছেন ৯ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ১ জন। সর্বোচ্চ বাৎসরিক আয় কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহেরের। তার ঘোষিত বার্ষিক আয় ৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি।