সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাস হওয়ায় বইমেলায় পাঠক খরা থাকলে পাপেট শোতে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবার বইমেলায় মাসজুড়ে শিশুপ্রহরে ‘পাপেট শো’ করছে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার। গত বৃহস্পতিবার একুশে বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রমজান মাসের কারণে এ বছর মেলার সময়সূচিতে এসেছে পরিবর্তন। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুক্র, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোয় থাকবে শিশুপ্রহর। গতকাল ছিল দ্বিতীয় শিশুপ্রহর।
গতকাল মেলার দ্বিতীয় শিশুপ্রহরে শত শত শিশু অভিভাবকদের সঙ্গে এসে জড়ো হয় পাপেট শোর মঞ্চের পাশের খেজুরগাছের ছায়ায়। হঠাৎ পাপেট মঞ্চ থেকে বেজে উঠল ‘আমরা করব জয়...’। শিশুরা নানা দিক থেকে ছুটে আসতে শুরু করল। পাপেট চরিত্র ‘আলো’ ও ‘ব্লু’ সবাইকে স্বাগত জানিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কারা আমাদের বন্ধু হতে চাও?’ শিশুরা চিৎকার করে জানাল ‘আমরা...’।
এরপর ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে...’ গান দিয়ে শুরু হলো পাপেট শো অপু-দীপুর গল্প। একে একে এল অপু, দীপু, তাদের মা, ছাগল, মৌমাছি। শিশুরা রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে উপভোগ করছিল এ পরিবেশনা। শো শেষে এল বড় পুতুল ইতু ও বাঘ আকৃতির বেঙ্গল মামা। সব শিশু ছুটে গেল পুতুল দুটির দিকে। কেউ ছুঁয়ে দেখছে, কেউ আবার তাদের সঙ্গে তুলছে ছবি। এ সময় গান বাজছে ‘চলছে গাড়ি ঠিক ঠিক, টা টা বাই বাই...’ এভাবে শেষ হয়েছে পাপেট শো।
তবে ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মেলায় পাঠক দর্শনার্থীর উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রকাশনী সংশ্লিষ্টরা। বাংলা একাডেমির স্টলের বিক্রয়কর্মী মো. আরাফাত বলেন, ‘মানুষজনের উপস্থিতি তেমন একটা নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কিছু মানুষ আসছে। বই দেখছে।’
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবারের বইমেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান। মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
একুশে বইমেলায় শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট অংশ নিচ্ছে। শিশুদের অবাধ বিচরণ ও সহজে বই সংগ্রহ নিশ্চিত করতে উদ্যানের ভেতরেই এ চত্বর স্থাপন করা হয়েছে।