ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পসহ দুঃস্থদের প্রায় ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। একই সঙ্গে অফিস স্টাফ ও উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাদের থেকে কয়েক লাখ টাকা নানা অজুহাতে ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত ২৮ জুলাই থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার অফিসের সহকর্মীরা।
এর আগে সমাজসেবা কার্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে থাকা দুঃস্থদের ঋণ কার্যক্রম ও বিভিন্ন ভাতার ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে হাতিয়ে নেন মোজাম্মেল হক। ঘটনা জানাজানি হলে এ বিষয় তদন্তের উদ্যোগ নেয় জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদারকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে। গত ১৪ আগস্ট তিনি এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।
মোহনগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয় ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির ৪ লাখ ৭৫ হাজার, মাতৃকেন্দ্রের ঋণ কর্মসূচির ৫ লাখ ১৩ হাজার, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের ১ লাখ ৪০ হাজার ও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের ২২ লাখ ৪৭ হাজারসহ মোট ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা একজন কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করে হাতিয়ে নিয়েছে।
এছাড়া অফিস স্টাফদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ ও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের থেকে মায়ের অসুস্থতাসহ নানা অজুহাতে আরো কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে সে।
অফিসের কয়েকজন সহকর্মী জানিয়েছেন, একজন কর্মকর্তা এমন হবে কখনো ভাবিনি। আমাদের সবার থেকে দুই লাখ টাকার বেশি নিয়েছেন।
২০২৪ সালের মে মাসে মোহনগঞ্জ উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসবে যোগদান করেন মোজাম্মেল হক। এরপর থেকেই নানা অনিয়ম শুরু করেন। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের ব্যবহৃত মোবাইফোন নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। মোজাম্মেল হক ৩৩ লাখ টাকার বেশি অবৈধভাবে অফিসের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করেছেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি টাকা মেরে হজম করার কোন উপায় নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। চাকরি যাবে, গ্রেফতার হবে ও টাকাও ফেরত দিতে হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না।