পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে

সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে, শিরশ্ছেদের ঘটনার ১৪ দিন আগে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের অংশ হিসেবে কারা বিভিন্ন জেলে আছে এমন একটি তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় ওই দুই ব্যক্তির নামও ছিল।

মক্কায় বাংলাদেশের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কেন তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কোনো দুর্বলতা ছিল কিনা তা জানতে চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সেই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়টিও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে।

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, এসকে আজিজুল বারী, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী ও সানজিদা ইসলাম। কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এ বিষয়ে তথ্য পেলে কমিটিকে জানানোর বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে জহরত আদিব চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুই বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য চেয়ে উনারা (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) প্রশ্ন পাঠিয়েছে। এখন তারা উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার কথা বলেছি। সেই সঙ্গে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই ব্যাপারে তাদের পদক্ষেপও আমাদের জানাবেন। কনস্যুলেটের কোনো ধরনের গাফিলতি নজরে এলে উনারা দ্রুত অ্যাকশন নেবেন বলে আমরা আশা করছি।’

সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে, শিরশ্ছেদের ঘটনার ১৪ দিন আগে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের অংশ হিসেবে কারা বিভিন্ন জেলে আছে এমন একটি তালিকা পাঠায়। সেই তালিকায় ওই দুই ব্যক্তির নামও ছিল। যেখানে অপরাধের নামও যুক্ত থাকে। দুজনের ক্ষেত্রে ‘অনৈতিক/অবৈধ সম্পর্ক’ অপরাধ উল্লেখ ছিল। যার শাস্তি ৬ মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে একটা ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের (মৃত্যুদণ্ড) মতো বিষয় হতে যাচ্ছে, তারা জানতে পেরেছেন পরে।

এছাড়া নারী শ্রমিকদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, ৪০ লাখের মতো শ্রমিকের মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার নারী শ্রমিক কর্মরত আছেন। তারা হ্যারাজমেন্টের শিকার হচ্ছেন কিনা, এ নিয়ে করা সার্ভেতে দেখা যায় প্রায় ২ শতাংশ নারী শিকার হচ্ছেন, অর্থাৎ সংখ্যাটি আনুমানিক ১৫০০ থেকে ২০০০।

এ প্রসঙ্গে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘এটি ছোট কোনো পরিসংখ্যান নয়। এটিকে শূন্যের কোটায় কীভাবে নামানো যায় এ নিয়ে যেন তারা কাজ করেন এবং আমাদের অবহিত করেন।’

আরও