কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে সরব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের পক্ষে মামলায় না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুমিল্লা বারের আইনজীবীরা।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের সামনে ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অপ্রতিম হত্যার দাবিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে মৌন মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর হয়ে আইন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে আবার একই চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা, কুমিল্লার পুলিশ সুপার ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়ার ইউনিট গঠন করা।
গতকাল বিকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মামলায় আসামিদের পক্ষে না লড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু। বৈঠকটিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করিম, কুমিল্লার সরকারি কৌঁসুলি জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।