জাকসুতে ভোটগ্রহণ চলছে, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ কোনো কোনো প্রার্থীর

কারো প্রতি নিয়মের শিথিলতা, কারো প্রতি কঠোরতা দেখানো হচ্ছে।

আবদুর রশিদ বলেন, বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেয়া হচ্ছে না। এতে করে অনেকেরই একাধিক ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। এরই মধ্যে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।

জাকসু নির্বাচনকে বিভিন্ন দল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবদুর রশিদ (জিতু)। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

আবদুর রশিদ বলেন, বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেয়া হচ্ছে না। এতে করে অনেকেরই একাধিক ভোট দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের ভিপি প্রার্থী আবদুর রশিদ (জিতু)। ছবি- বণিক বার্তা

এই প্রার্থী আরো হলেন, গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন দল নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের উচিত দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফুর্ত ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, জাকসু নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট রাখার কথা না থাকলেও নির্বাচনের আগে হঠাৎ মধ্যরাতে পোলিং এজেন্ট রাখার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এতে অনেক প্রার্থীই এজেন্ট জোগাড় করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল থেকে এজিএস প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি।

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, আগে বলা হয়েছে একজন প্রার্থীর দু'জন পোলিং এজেন্ট থাকতে পারবে। এখন বলা হচ্ছে একটা প্যানেলের একজন এজেন্ট থাকতে পারবে। তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট কারা হবে?

সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল থেকে এজিএস প্রার্থী ফারিয়া জামান নিকি। ছবি- বণিক বার্তা

তিনি আরো বলেন, ভোট চলাকালীন আবার বলা হচ্ছে, প্রার্থীর স্বাক্ষর ছাড়া পোলিং এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। এভাবে কারো প্রতি নিয়মের শিথিলতা, কারো প্রতি কঠোরতা দেখানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আজ সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

জাকসু নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী এবং ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও।

কেন্দ্রীয় সংসদে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ৯ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৫টি। ২১টি হল সংসদে মোট পদ ৩১৫টি। এতে ৪৭৭ জন প্রার্থী। ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী নেই। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ৬৭টি পদে। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হবে।

আরও