প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দেয় নড়াইলের মধুমতী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। এ বছরও ভাঙনের কবলে পড়েছে লোহাগড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। এক মাস ধরে অব্যাহত ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, কাঁচা-পাকা ঘর, গাছপালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত বাড়ি, রাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ অবস্থায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর জুন ও জুলাইয়ে ভাঙনের কবলে পড়েন মধুমরি নদীপাড়ের বাসিন্দারা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জুনের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে ভাঙন। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি বাস্তবায়ন করেননি। আর আশ্বাস নয়, এবার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।
নদীভাঙনে সব হারিয়েছেন লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের ধানাইড় গ্রামের মো. আবু বক্কর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে মধুমতী নদীপাড়েই বসবাস করছি। জীবনের বেশির ভাগ সময় মধুমতির সঙ্গে এক প্রকার যুদ্ধ করে বসবাস করেছি। প্রতি বছরই নদীতে ভেঙেছে বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ৭০ বছরের জীবনে ছয়বার ছয়টি বাড়ি নির্মাণ করেছি। তবে একটি বাড়িতেও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারিনি। ছয়টি বাড়িই বিভিন্ন সময় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শেষ বাড়িটি নদীতে ভেঙে গেলে হার মেনে নিয়েছি। গত বছর নদী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গিয়ে বাড়ি করেছি। সেখানে বসতি গড়লেও পৈত্রিক ভিটার মায়া ছাড়তে পারিনি। সময় পেলেই নদীপাড়ে ছুটে আসি।’
ধানাইড় গ্রামের জুয়েল ভূঁইয়া বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে বিগত বছরগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে সামান্য কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সে উদ্যোগ তেমন কোনো কাজে আসছে না। যেসব এলাকায় অস্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে সেসব এলাকাও ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি আমার মতো নদীপাড়ের সব বাসিন্দার।’
এ প্রসঙ্গে পাউবোর লোহাগড়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’