ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও চারটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন আরো ২৮ জন রোগী।
জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলার মৌলজালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের মো. সরা বালির ছেলে ফরিদ হোসেন (৩০) এবং আব্দুল আলির ছেলে তোকাবালি (৬০) মারা গেছেন। তারা দুজনই বুধবার রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য শাহনাজ পারভীন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ জন, নলছিটি হাসপাতালে ১ জন, রাজাপুর হাসপাতালে ১৬ জন ও কাঁঠালিয়া হাসপাতালে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। চলতি বছরে জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নিহত তোকাবালির পরিবার জানিয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তাকে কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ফরিদ হোসেনকে প্রথমে কাঁঠালিয়া হাসপাতাল থেকে ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, জেলায় দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল মেডিকেলে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজাপুর উপজেলায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এ বছর বর্ষার স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামাঞ্চলেও দ্রুত হারে রোগী বাড়ছে। তাদের মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়ানোই ডেঙ্গু মোকাবেলার মূল উপায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আক্রান্ত এলাকা ও পানি জমে থাকা স্থানে নিয়মিত তল্লাশি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশার বংশবিস্তার রোধে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।