প্রাচীনকাল থেকে দর্শন, বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিদ্যার মতো জ্ঞানের শাখায় গণিত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এদিকে প্রযুক্তির উন্নয়ন পদার্থবিদ্যা, মহাকাশ গবেষণা, প্রকৌশল এমনকি অ্যালগরিদম, এআই ডেভেলপমেন্ট ও সফটওয়্যার তৈরিতেও গাণিতিক দক্ষতা অপরিহার্য। আপনি নিজে একজন গণিতবিদ। দীর্ঘদিনের অধ্যাপনা ও গণিতচর্চার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গাণিতিক দক্ষতা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গণিতের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?
যেকোনো ধরনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গণিত যে গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছি। তবে প্রশ্নের শুরুতে যে প্রসঙ্গটি এনেছেন অর্থাৎ ‘প্রাচীনকাল থেকে’—এখানে কিছুটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এ মুহূর্তে যদি বাংলাদেশের শিক্ষানীতি অর্থাৎ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর দিকে তাকান, তাহলে লক্ষ করবেন গণিতকে একটি অপশনাল বা ঐচ্ছিক বিষয় করে রাখা হয়েছে। এটি বিজ্ঞানের অন্য বিষয়গুলোর সহায়ক হিসেবে পঠিত হয়। অথচ আমরা জানি, বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের সব শাখায় গণিত অপরিহার্য। তাই গণিতকে এভাবে সহায়ক অধ্যয়ন হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। আমরা যদি পিথাগোরাস থেকে শুরু করে নিউটন ও আইনস্টাইন পর্যন্ত গণিতের ইতিহাসে চোখ বোলাই তাহলে দেখব, গণিত নিজেই অধ্যয়নের স্বতন্ত্র একটি শাখা। পিথাগোরাস গণিতের একটি বড় শাখা আবিষ্কার করেন, ইউক্লিড জ্যামিতির আলাদা একটি শাখা গড়েন কিংবা নিউটন ক্যালকুলাসের মতো শুরুত্বপূর্ণ শাখা প্রবর্তন করেন।
তারা কিন্তু গণিতের এ শাখাগুলোকে কোনো বিজ্ঞানের সহায়ক শাখা হিসেবে আবিষ্কার করেননি। এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নৈতিকতার দিক থেকে আমাদের শিক্ষানীতির সঙ্গে এ ভাবনা প্রাসঙ্গিক। এ কারণে যে গণিতকে আমরা একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা না করে যদি সহায়ক বিষয় হিসেবে পড়াই তাহলে বড় ভুল করব। গণিত প্রায় সব কাজেই লাগে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এমন কোনো খাত নেই যেখানে এর প্রয়োগ নেই। বায়োলজিক্যাল, স্বাস্থ্য খাতেও গণিতের ব্যবহার হচ্ছে। এটি ছাড়া কোনো খাতই টেকসইভাবে পরিচালনা করা যায় না। এজন্য আপনাকে গাণিতিক দক্ষতা অর্জন করতেই হবে।
কিন্তু অন্য ব্যবহারিক কাজে লাগাব বলেই আমরা গণিতচর্চা করব এমনটাও নয়। গণিত শিখতে হবে গণিতের জন্য। কারণ গাণিতিক চর্চা আমাদের মানসিক বিকাশ ও উন্নয়নে সহযোগিতা করে। সৃজনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক যৌক্তিকভাবে ভাবার সক্ষমতা বাড়ায়। এসব উপকার এড়িয়ে গণিতকে শুধু ব্যবহারিক টুলস হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আমার ধারণা, বাংলাদেশে এটাই করা হয়। গণিতকে কেবল একটা অ্যাপ্লিকেবল টুলস হিসেবে ব্যবহার করা হলে আমরা ভুল করব।
বছরখানেক আগে দি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘হোয়াই এশিয়ানস আর গুড অ্যাট ম্যাথম্যাটিকস’। পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল এশিয়ানরা যেহেতু গণিতে ভালো তারমানে বাংলাদেশও এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। বাস্তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গণিতচর্চার প্রকৃত অবস্থা কেমন?
প্রকৃত অবস্থা আশাব্যঞ্জক কিছু নয়। আমি নিজেও এমন একটা প্রতিবেদন পড়েছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, যারা ভাত খায় তারা গণিতে ভালো করে। সে হিসেবে আশা করাই যায় যে আমাদের গণিতে ভালো হওয়ারই কথা। এটা সঠিক, গণিত শেখার জন্য যে রসদ অর্থাৎ মানসিক গঠন দরকার, সেটা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে। দেশের শিক্ষার্থীরা গণিতে ভালো করার পাশাপাশি বিশ্বে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখে। কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপট আশাব্যঞ্জক নয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরের গণিতে পাঠের মান অত্যন্ত নিম্নস্তরের। এর পরিসংখ্যান দিতে পারি। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে গণিতে শিক্ষার্থীদের গড় দক্ষতা স্কোর ৩৩-৩৯। অর্থাৎ গাণিতিক দক্ষতা অনেক নিম্নে। মাধ্যমিক পর্যায়ে অবস্থা আরো শোচনীয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ‘পিআইএসএ’-এর মতো আন্তর্জাতিক জরিপগুলোতে আমাদের দেশের কোনো তথ্য নেই। উচ্চতর স্তরে অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠানে নেই। তাছাড়া দেশে প্রকৃত অর্থে গণিতবিদের অভাব রয়েছে। আমি সবসময় বলি, দেশের গণিতবিদদের দক্ষতা পরিমাপ করলে দেখা যাবে যে কলকাতার গণিতবিদের মানের গণিতবিদ আমাদের এখানে তৈরি হয়নি।
আমরা যদি বিজ্ঞানীদের নাম নিই তাহলে ড. জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন বোস, ড. কুদরাত-ই-খোদার মতো নাম পাব। চিকিৎসা, কৃষি গবেষণাতেও প্রথিতযশা অনেক গবেষক, বিজ্ঞানী রয়েছেন। কিন্তু গণিতে সেরকম বড় গণিতবিদ পাচ্ছি কি? ভারতে বিশ্বসেরা বেশ কয়েকজন গণিতবিদের নাম শোনা যায়, জাপানে গণিতের বিভিন্ন মাস্টার রয়েছেন। বাংলাদেশে এমন গণিতবিদ বা গণিতগুরু পাচ্ছি না কেন?
এটা আমাদের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বড় দুর্বলতা। এটাও আমি প্রায়ই বলি, দেশে প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি। যেগুলোকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বলে দাবি করছি, সেগুলো প্রকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এগুলো মূলত ‘ফিডার ইনস্টিটিউট’। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই ধরা যাক। এ বিশ্ববিদ্যালয়টির কাজ কী? এ প্রতিষ্ঠানের কাজ মূলত বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তৈরি করা। তারপর তারা সেখানে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা নেন। এরপর তাদের অনেকের ইচ্ছা হলে দেশে ফেরেন আর না হলে বিদেশেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। এ পরিসংখ্যান বিচার করলে কারণটি বোঝা যায়। সত্যেন বসুর কথাই ধরুন। তিনি কিন্তু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। তারপর বিশ্বসেরা স্কলারদের একজন হন। বাংলাদেশেই আইনস্টাইনের সমকক্ষতা অর্জন করে তিনি বড় এক বিজ্ঞানী হয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের এখানকার উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান অনেক খারাপ। এজন্য আমরা বিশ্বমানের কোনো গণিতবিদ পাই না এবং এ অবস্থা চলতে থাকলে পাব বলেও মনে হয় না।
দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে কী কী কাঠামোগত সমস্যার কারণে উচ্চতর পর্যায়ে গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থী আসছে?
কাঠামোগত সমস্যার প্রসঙ্গটি বাস্তবিক। দেশে প্রত্যেকটি শিক্ষা স্তরের সমস্যা আলাদা। প্রাথমিকে এক রকম, মাধ্যমিকে অন্য রকম আর উচ্চতর স্তরেরটা একেবারেই আলাদা। প্রাথমিক স্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব হচ্ছে প্রধান সমস্যা। এটি আমাদের জন্য বড় সংকট। কারণ দেশের প্রাথমিক স্তরে গণিতে দক্ষ শিক্ষক তো দূরের কথা, সাধারণ অধ্যয়নের শিক্ষকের মানও সন্তোষজনক থাকে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন সন্তোষজনক হচ্ছে না। অনেকের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধাদি অনেক কম। হ্যাঁ, এটি একটি সমস্যা, তবে এটাই একমাত্র সমস্যা বা কারণ নয়। উন্নত বিশ্বের দেশ, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকালে দেখবেন, ওখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেউ শিক্ষক হতে চাইলে তাকে এডুকেশনের ওপর একটি ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। এজন্য বাংলাদেশ থেকে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেন, কিন্তু এডুকেশনে ডিগ্রি না থাকলে ওখানে প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবেন না। এর বিপরীতে দেশে যাকে তাকে প্রাইমারি স্তরে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের বিকাশ মনোবিজ্ঞান, গণিতের শিক্ষাদান কৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে না। তাই তাদের যখন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়ে যাই, তখন তারা গণিতকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে পড়াতে পারেন না। গণিত বরাবরই আলাদা মনোযোগের দাবি রাখে। গণিতের শিক্ষকদের জন্য তাই আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কিন্তু এ ধরনের কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট আমাদের নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, দেশের বিএড ও এমএডের মতো শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলো সবচেয়ে অবহেলিত। অথচ গোটা বিশ্বেই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এ ধরনের বিপরীত বাস্তবতা থেকে আমরা ভালো ফল প্রত্যাশা করতে পারি না। এটাই একমাত্র কারণ বলা যাবে না। কারণ কারিকুলাম, শিক্ষানীতি ও শিক্ষকদের মনমানসিকতার মতো বিষয়ও এখানে জড়িত।
যেমনটি বলেছেন, দেশে গণিতফোবিয়া কি কারিকুলামের কারণে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতার অভাবে ঘটছে। দি ইকোনমিস্টের যে প্রতিবেদনের কথা বলছিলাম সেখানে দেখা গেছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর এমনকি ভারত গণিতে এগিয়ে। জাপানে শৈশবেই অ্যাবাকাসসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র ব্যবহার করে গণনা শেখানো হয়। বাংলাদেশেও ইদানীং বেশ কয়েকটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বা ইংলিশ ভার্সন স্কুলে এমনটি শুরু করেছে। এই যে গণনা পদ্ধতি নিয়ে আপনার কিছু সমালোচনা আছে তার আলোকে দেশের প্রেক্ষাপটে তুলনা করে যদি মন্তব্য করতেন।
গণিতের প্রতি ভীতির দুটি প্রধান স্তর। প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের গণিত ভীতির শুরু। এ ভীতি বদ্ধমূল হয় মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে। আমি এ বিষয় নিয়ে ২০০৫-০৬ সালের দিকে গবেষণা করেছিলাম। তখন দেখেছি, ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতভীতি দেখা দেয়। প্রাথমিকে ভালো করা শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যেও ষষ্ঠ শ্রেণীতে গণিতভীতি দেখা দেয়। মানে বীজগণিত আসার পর।
বীজগণিতে কেন এমন ভয়? কারণ প্রাথমিক স্তরের গণিতের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা প্রাত্যহিক জীবনের একটা সম্পর্ক খুঁজে পায়। বাজারে এত টাকা নিয়ে গেলাম, এত টাকা খরচ করলাম তাহলে কত বাকি থাকে? এভাবে তারা বুঝতে পারে। একই ধারণা বিমূর্তভাবে উপস্থাপন করা অর্থাৎ এক্স, ওয়াই, জেডে নিয়ে গেলে আর শিক্ষার্থীরা এর প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পান না। মানে বীজগণিতও যে বাস্তব জীবনের সমস্যা সেটা বুঝতে না পেরে তারা সমাধান করতে পারে না। তখন বীজগণিত দেখে তারা ভাবে, এটা তার পক্ষে করা সম্ভব হবে না।
এবার আসা যাক গণনাপদ্ধতি শেখার বিষয়ে। আমার আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজিজুর রহমান খলিফা নামে একজন গণিতবিদ গবেষণা করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, গণনাপদ্ধতি থেকেই শিশুদের মধ্যে গণিতভীতি শুরু হয়। যেমন ইংরেজিতে যখন একজন ছাত্র গণনা করে, ফোর্টি ওয়ান, ফোর্টি টু, ফোর্টি থ্রি, এভাবে ফোর্টি নাইন, ফিফটি...তো এই ১০টা সংখ্যার মধ্যে তাকে শুধু একটা সংখ্যা নতুন শিখতে হয়। আর বাকি সব সে ডিকটেশনের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফোর-ওয়ান’, ‘ফোর-টু’ সে বুঝে ফেলতে পারে। কিন্তু বাংলা ভাষায় এ রকম নয়। এখানে একচল্লিশ, বিয়াল্লিশ, তেতাল্লিশ... এভাবে আপনার ঊনপঞ্চাশ; তাহলে ঊনপঞ্চাশ এল কোত্থেকে? এই যে গণনাপদ্ধতি এটি কোনো প্যাটার্ন অনুসরণ করে না। গণিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কনসেপশন হলো ‘প্যাটার্ন’। এখানেই আমাদের কাঠামোয় বড় সমস্যা রয়ে গেছে।
আপনি নামতা নিয়েও বলেছেন যে তিন, নয় ও ছয়ের নামতা এগুলোও তো প্রায় এক। এটাও কি সমস্যা নয়?
হ্যাঁ, এটা আমাদের সমস্যা। এসব নিয়ে গবেষণা জরুরি। কীভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ গণনাপদ্ধতি তৈরি করা যায় এ বিষয়ে গবেষণা দরকার। তবে দেশে গণিতভীতির আরেকটি বড় কারণ কিন্তু শিক্ষকও। আমাদের শিক্ষকদের যে আচরণ সেটি গণিতবিমুখী। একটি ধারণা প্রচলিত যে গণিতের জন্য প্রাইভেট পড়তেই হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে এমন মানসিকতা বেশি। এসব কারণেও শিক্ষার্থীদের মনে গণিতের ভীতি তৈরি হয়।
পাঠ্যপুস্তক আরেকটি বড় কারণ। সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পরীক্ষাপদ্ধতি। অনেকের মনে থাকার কথা। বানরের বাঁশে ওঠার একটা অংক করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ অংক বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না। কিন্তু এটিই ঘুরেফিরে প্রশ্ন আকারে আসছে। অথচ একটি গাছ বা নির্ধারিত সেন্টিমিটারের একটি পাতা কতটুকু অক্সিজেন উৎপাদন করে, জেন্ডার ব্যালান্স তৈরি করে এমন কোনো অংক কিন্তু নেই। গণিতের বইয়ে পরিবেশ সচেতনতা, লিঙ্গীয় সমস্যা ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি হয় এমন কোনো অংক নেই। আমরা সেসব অংকই করি যেখানে থাকে অর্থকড়ির হিসাব। যেন গণিত একটা পুঁজিবাদী টুলস। সোনার সঙ্গে তামা মিশিয়ে কত অনুপাত বা দুধের সঙ্গে পানি মিশিয়ে কীভাবে বানানো যায়—এমন ভেজাল পদ্ধতিই শেখানো হয়। এগুলো আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এগুলো দেশে গণিতের মান অনেক নামিয়ে দিচ্ছে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গণিতের পাঠ্যবইগুলো অবশ্যই দেখেছেন। বিশেষত গত কয়েক বছরের টেক্সটবইগুলো। এগুলোর মান কেমন?
মান এখনো পর্যাপ্ত নয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক এখন কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০০৯ সালে এক সেমিনারে যখন আমি পেপার উপস্থাপন করি তখন গণিতের বইগুলোকে ‘মাসকিউলিন’ বলে অভিহিত করি। মাসকিউলিন এ অর্থে যে গণিত বইয়ের সব চরিত্রই পুরুষ। ওই পেপারেই আমি দেখিয়েছি, গণিত বইয়ের ৭৮ শতাংশ চরিত্রই পুরুষ। এখন এ হারে পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রায় ৫০ শতাংশ পুরুষ চরিত্র আর বাকি অংশ নারী। এটি কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এমন হওয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতে ভীতি দেখা দিত। তাদের গণিতচর্চার আগ্রহ কমে যেত। তাছাড়া আমাদের গণিত বইয়ের কাঠামোই এমন যে সরাসরি অংকতে চলে যায়। এর সঙ্গে বাস্তব জীবন, নৈতিকতা কিংবা মানুষের প্রতি সহমর্মিতার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। একটা বিষয় লক্ষ করা জরুরি, দেশের কোনো গণিত বইয়ের কোনো একটি সমাধানের বিকল্প কোনো প্রমাণ কি আছে? মিলবে না। এই যেমন পিথাগোরাসের থিওরি, এটা তো একটা সূত্রই। একটা প্রমাণই শুধু ছাত্ররা মুখস্থ করবে। এর যে আরো একাধিক প্রমাণ থাকতে পারে, অল্টারনেটিভ ভাবনার যে প্যাটার্ন থাকতে পারে তা এখানে পড়ছে না। এ প্লাস বি হোল স্কয়ার সূত্রের যে প্রমাণ সেটা বীজগাণিতিক প্রমাণ; কিন্তু এর যে একটা জ্যামিতিক প্রমাণ থাকতে পারে তা শিক্ষার্থীদের বোঝানো যাচ্ছে না। এজন্যই শিক্ষার্থীদের ভাবনার পরিসর বড় হচ্ছে না।
আমরা প্রেসক্রাইব করছি, তোমাকে এই অংশটুকুই পড়তে হবে। তাই সমাধানে শুধু টেক্সটের উন্নতি ঘটালে হবে না। এর সঙ্গে অবশ্যই শিক্ষক প্রশিক্ষণের বড় একটি অংশ থাকতে হবে। শিক্ষকদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে না পারলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে শিক্ষক সহায়িকা গ্রন্থও রাখা দরকার। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে শিক্ষকদের নানা ধরনের নির্দেশনা দেয়া হবে। বিকল্প প্রমাণ, বিকল্প থিওরির দিকে আগ্রহী করতে হবে। এভাবেই শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হবে।
বিদ্যালয় ও কলেজে আমাদের গণিতপাঠের অভিজ্ঞতা প্রায় একরকম। শুরুই হয় অনুশীলন দিয়ে। তার আগে বইয়ের বিভিন্ন অংশের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে শিক্ষকরা হাত দিতেন না। বর্তমানে কি এ পরিস্থিতির সামান্য হলেও উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয়?
উন্নতি তো হয়নি বরং আরো অবনতি ঘটেছে। কেন ঘটেছে তা বলি। বর্তমানে পড়ালেখা পরীক্ষানির্ভর হয়ে গেছে। আর পরীক্ষা হয়েছে মুখস্থনির্ভর। একটা অধ্যায়ে ৫০টি সমস্যা আছে। শিক্ষক বলছেন, সেখানের পাঁচটা পড়লেই পরীক্ষায় কমন পড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। এমন হলে শিক্ষার্থীরা ওই পাঁচটা অংকই পড়বে। বাকি ৫০টার পেছনে সে কেন সময় ব্যয় করবে? আর অনুশীলনীতেই বা কেন মনোযোগ দেবে? এজন্য পাঠ্যপুস্তকই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণও অনেক জরুরি। পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ। একটা প্রশ্ন উত্থাপন করা জরুরি। গণিত পড়ার ক্ষেত্রে কোনটা কমন পড়বে এটা কেন নির্ধারণ করতে হবে? গণিতের যেকোনো টেক্সটেই দেখা যায়, এ অংকটি এত সালে পরীক্ষায় এসেছে, ওই প্রশ্নটা ওই সালের পরীক্ষায় এসেছে। আমরা কী নতুন ধাঁচের গাণিতিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারি না?
প্রশ্নের মধ্যে কোনো উদ্ভাবন নেই। একই ফিগার থেকে যাচ্ছে। এমনটা কেন হবে? এর ফলে কী হচ্ছে? শিক্ষার্থীরা গণিত বুঝছে না। তারা মুখস্থ করছে। অর্থাৎ গণিতে মুখস্থ নির্ভরতাই বাড়ছে। গণিত বইয়ের ২০ শতাংশ পড়ে যদি ৮০ শতাংশ মার্কস আদায় হয় তাহলে বিষয়টা নৈতিকভাবে ঠিক নয়। এ চর্চাই দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষানির্ভর, জ্ঞাননির্ভর নয়। আমরা শুধু এসএসসি ও এইচএসসির ফল বিশ্লেষণ করি। প্রত্যেক শ্রেণীর ফল মূল্যায়ন করছি না। তাই গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা আমাদের জানা নেই। এমনটা হলে শিক্ষাকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।
গণিতচর্চা আনন্দময় করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে গণিত শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত?
প্রথমেই গণিতকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে কল্পনাপ্রবণতাকে। গোটা বিশ্বেই ধাঁধা বা পাজল আছে। এ ধরনের বিকল্প বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে সত্যেন বসুর একটি গল্প আমি প্রায়ই বলি। নরমাল স্কুলে তার গণিতের দক্ষতা দেখে শিক্ষক উপেন্দ্রনাথ বক্সী ১০০-এর মধ্যে ১১০ মার্কস দিয়েছিলেন। কেন দিয়েছিলেন? কারণ সত্যেন বসু প্রশ্নের উত্তর একাধিক পদ্ধতিতে দিয়েছিলেন। ওই বয়সে কোনো শিক্ষার্থীকে ১০০তে ১১০ দেয়া এক ধরনের অনুপ্রেরণা। এমন চর্চা আমাদের দেশে নেই। এভাবেই গণিতচর্চাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। তারপর গণিতকে চিন্তার সঙ্গেও সংযুক্ত করতে হবে। কারণ চিন্তার অগ্রগতি ছাড়া গণিতের প্রয়োগও কঠিন। বাস্তবে তো স্কেল দিয়ে পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব মাপা যাবে না। গণিত দিয়েই করতে হবে। ভেবে দেখুন, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে একটা কাঠি দিয়ে অ্যারিস্টার্কাস পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি মেপেছিলেন। এমনকি পিরামিডের উচ্চতাও মাপা গিয়েছিল। এগুলো চিন্তার চর্চা বাড়ানোর ফল। এ চিন্তার চর্চা বাড়ানোর অনুশীলন গণিত বইয়ে না থাকলে আর সহায়ক প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের না দিলে কোনো উন্নতি প্রত্যাশা করা যায় না। এগুলোর একটা সার্বিক চিত্র প্রশ্নপদ্ধতির মধ্যেও দেখা দিতে হবে। যদি এসব না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা কেন গণিতে আগ্রহী হবেন? তাই গণিত শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক করার পাশাপাশি চিন্তার পরিধি আরো বিস্তৃত করাতে হবে। এ সক্ষমতা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের মধ্যেই বাড়াতে হবে।
গণিতে দুর্বলতা কাটাতে শহর থেকে গ্রামে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশই প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে কি সমস্যা কাটছে? ক্লাসে পাঠদানে অপূর্ণতা রেখে প্রাইভেট-কোচিং নির্ভরতা কি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক?
না, এটা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। শ্রেণীকক্ষের বিকল্প তো প্রাইভেট বা কোচিং না। এজন্যই সরকারকে নিয়ম করতে হবে। প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকদের প্রাইভেট না পড়ানোর কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। এদিকে প্রাইভেট-কোচিং দেশে মহামারী আকার নিয়েছে। বিশেষত গণিতের জন্য। মানসম্মত গণিত শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি এখন প্রধান বাধা। সরকারকে প্রায়ই প্রজ্ঞাপন জারি করতে দেখা যায়। তারা বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্ত আসে। আমাদের প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে কঠোর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ এ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরাসরি সরকারের বেতনভুক্ত ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এজন্যই প্রাইভেট-কোচিং শতভাগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এগুলো বন্ধ করতে না পারলে সামগ্রিকভাবে গণিতচর্চার কোনো উন্নয়ন ঘটবে না। কেন ঘটবে না? কারণ এর সঙ্গে আরো অনেক কিছু জড়িত। এখানে একটি চক্র প্রশ্নফাঁস করে, এমন অভিযোগ অতীতেও মিলেছে। আবার প্রাইভেট শিক্ষকরা এমনভাবে রুটিন সমন্বয় করেন যাতে তারা প্রাইভেট পড়াতে পারেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসবিমুখ করার পেছনে প্রাইভেট অনেকাংশে দায়ী।
এখানে এক ধরনের অনৈতিক চর্চাও রয়েছে। সেটা কীভাবে? ক’দিন আগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় কয়েকজন প্রাইভেট পড়ান এমন শিক্ষকদের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় তদবির করতে দেখা গেছে। এগুলো না থামাতে পারলে গণিতচর্চার উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
আপনার লেখালেখির অন্যতম জায়গা আমলাতন্ত্র। দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে আমলাতন্ত্রের কোন কোন জায়গাগুলোকে প্রতিবন্ধক বিবেচনা করছেন?
এটা একটু ভিন্ন আঙ্গিক থেকে বলতে হয়। আমলাতন্ত্রের সর্বগ্রাসী প্রভাব দেশের সব খাতেই কমবেশি রয়েছে। যেমন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়েছি। এগুলো কেন অবহেলিত? এসব প্রতিষ্ঠানে পদায়ন ও নিয়োগ কে দেয়? সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই তো, তাই না? মন্ত্রণালয় যদি সঠিক জায়গায় যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়, অর্থাৎ দক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে তাহলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। আর অদক্ষ ও অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দিলে শিক্ষার মান কখনই উন্নত হবে না। এমনটিই বাস্তবতা।
এ বিষয়ে রাষ্ট্র আমলাতন্ত্রের ওপর সব ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে। তাই তারা যদি এখানে ব্যর্থ হয় তার দায়ও তাদের ওপর বর্তায়। মন্ত্রণালয়কেই যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে নিয়োগ ও পদায়ন করতে হবে। এটাই সমাধান।
এরই মধ্যে সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পেরিয়েছে। সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গণিত শিক্ষা উন্নয়নে ও গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি কী প্রত্যাশা করেন?
সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো, গণিতকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষানীতিতে সংযুক্ত করতে হবে। যারা শিক্ষানীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বুঝতে হবে শিক্ষা সহায়ক কোনো বিষয় নয়। এটি আলাদা ও স্বতন্ত্র বিষয়। এটি মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়ায়। এরপর সব শিক্ষককেই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গণিতের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকা চাই। গণিত শিক্ষকদের বিশেষ মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। দলীয়করণ কোনোভাবেই এখানে মেনে নেয়া যাবে না। দেশে দলীয়করণ সব পর্যায়েই হয়। কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে যাওয়া দরকার। এখানে উপযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবতে হবে। এটা শুধু প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরেই নয়, উচ্চ শিক্ষা স্তরের ক্ষেত্রেও ভাবতে হবে। এখন দেশে উচ্চ শিক্ষাস্তরে পিওর গণিতবিদ নেই। ফলিত গণিতবিদ আছেন। এজন্য গণিতবিদ বাড়ানোর জন্য আলাদা স্কলারশিপ চালু করা যেতে পারে। প্রাথমিক ও মাধ্যম স্তরেও গণিতে শিক্ষার্থীদের আলাদা প্রণোদনা দিতে হবে। এটা অনেকটা বৃত্তি বা উপবৃত্তির মতো হতে পারে। এ ধরনের প্রণোদনায় বলা হতে পারে যে কেউ যদি ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পায় তাহলে তাদের আলাদা প্রণোদনা দেয়া হবে। নতুন সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা যে তারা শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাববেন এবং এর সংস্কারে কাজ করবেন। অবশ্যই গণিতে বিশেষ মনোযোগ দেবেন। এটা আলাদা মনোযোগ দাবি করে।