বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান জানান, সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসবে জামায়াত।
কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা যেন আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি। তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে সেটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা ইনশা আল্লাহ বসব, খোলামনে কথা বলব, জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব এবং জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) এ নির্বাচন নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হোক—আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও আমরা দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব। তারেক রহমান সাহেবসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এটাও বলেছি যে পাঁচটা বছরের জন্য, জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কিনা, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার একটি সংগ্রামী আপসহীন জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। লড়াই করতে করতে তার শেষ জীবনটা একাকিত্বে কেটেছে। এ সময় যারা দেশ শাসন করেছেন তারা তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন তাকে বিদেশে নেয়ার জন্য দল-পরিবার বারবার অনুরোধ করেছে। সরকার তো আমলে নেয়নি, বরং এটা নিয়ে বারবার উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার ইতিহাসের অমোঘ বিধান। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, বিদেশেও গিয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে তার বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সেই যে তিনি (খালেদা জিয়া) যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে এলেন আর চিকিৎসা নেয়ার মতো অবস্থা তার থাকল না। স্বাস্থ্যটা এতটা ভেঙে পড়ল যে শেষ চিকিৎসা তার দেশেই নিতে হলো। এ ক্ষেত্রে আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ দরজা তাকে দান করুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সহমর্মিতা জানাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং যারা তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন সেসব চিকিৎসক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বেগম খালেদা জিয়াকে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়েছেন। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে যে ভবিষ্যতে আমাদের দেশের নাগরিকরা এমন চিকিৎসক সমাজের কাছে আশা করতে পারেন।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি চলে গেছেন ইতিহাসের একটা বিরল সম্মান নিয়ে। মানুষ আবেগ দিয়ে চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় দিয়েছে। উনি জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তিনি তার পাওনাটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন। তার পাওনা দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হই। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি তাহলে এ দেশের মানুষ আমাদেরও একদিন এ রকম বিদায় দেবে। সবার কপালে এটা জোটে না। মানুষের চোখের পানি দিয়ে বিদায় এটা বিশাল ব্যাপার। এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।’
এ সময় শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন ও সাইফুল আলম খান মিলন। সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।
এ বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ম্যাডামের মৃত্যুতে তার বড় সন্তান তারেক রহমানকে সমবেদনা জানাতে আমিরে জামায়াত গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে গিয়েছেন। রাজনীতিতে এটি খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা যেন পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব না ফেলে সে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।’