মেহেরপুর ও মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ১৪০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ রোববার (২৫ মে) এ পুশইনের ঘটনা ঘটে।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা আসা এসব নারী, পুরুষ ও শিশুদের নেয়া হয়েছে মুজিবনগর থানা পুলিশের হেফাজতে। আজ ভোরে সীমান্তে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদেরকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়া হয়।
আটক হওয়াদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ৯ জন শিশু রয়েছে।
ভারত থেকে আসা কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা সবাই বাংলাদেশী। অবৈধভাবে তারা বিভিন্ন সময়ে ভারতে যায়। কিছুদিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আজ ভোরে বিএসএফ তাদেরকে নিয়ে আসে মুজিবনগরে সোনাপুর সীমান্তে। সেখানে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে জোরপূর্বক বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করে বিএসএফ।
মুজিবনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ১৯ জনই বাংলাদেশী বলে দাবি করেছেন। তবে তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বাংলাদেশী কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে তারা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। তাদের দেয়া পরিচয় যাচাই করার পর তাদের বিষয়ে আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজরের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে আরো ১২১ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পুশইন কার্যক্রম চলে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের আটক করে বিজিবি। এদের মধ্যে বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর সীমান্ত দিয়ে ৭৯ জন, পাল্লাথল সীমান্ত দিয়ে ৪২ জন ও সিলেটের বিয়ানীবাজারের নয়গ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৩২ জনকে পুশইন করা হয়। বিজিবি জানায়, রাত আড়াইটা থেকে ঘন জঙ্গল ও বিলের মধ্য দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
এর আগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ১৫৫ জনকে পুশইন করে বিএসএফ।