৪ সংস্থার পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন

প্রায় ৯৯% সংখ্যালঘু ভোটার কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংখ্যালঘু ভোটারদের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ অবাধে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ এবং কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংখ্যালঘু ভোটারদের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ অবাধে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ এবং কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন। ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ কেন্দ্রে তাদের ব্যালটের গোপনীয়তা সুরক্ষিত ছিল। এছাড়া সংখ্যালঘু নারীদের ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ভোট দিতে পেরেছেন।

রুরাল অ্যান্ড আরবান পুওরস পার্টনার ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট-রুপসার নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে এসব উঠে এসেছে। গতকাল রাজধানীতে চারটি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সংস্থা নির্বাচন নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।

রুপসা ‘নির্বাচনে সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তি’; অধিকার ‘নির্বাচনী সহিংসতা’; বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি’ এবং আরশি ট্রাস্ট ‘নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে অনলাইনে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা’ পর্যবেক্ষণ করে।

সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণটি তিন ভাগে ছিল। প্রথম ভোটদান শুরু বা উদ্বোধন পর্যায়, এরপর ভোটদান পর্যায় এবং সমাপ্তি ও গণনা পর্যায় রয়েছে। রুপসা জানায়, নির্বাচনে তারা বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২৫টি আসনের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৫০৯টি ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে। তারা সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা, প্রবেশগম্যতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও সততা নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা মূল্যায়ন করে। নির্বাচনের শুরুর দিকের ১০০টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রক্রিয়াটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। ৯৮ শতাংশ কেন্দ্র সময়মতো খুলেছে ও প্রয়োজনীয় সব উপকরণ ছিল।

ভোটদান পর্যায় পর্যবেক্ষণের তথ্য তুলে ধরে রুপসা বলেছে, ৪০৯টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোট কেন্দ্রে ভোটদান পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পরিচালিত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ব্যাপক ছিল ও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা সুরক্ষামূলক ছিল বলে উঠে এসেছে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে।

১৭৯টি কেন্দ্রে নির্বাচন সমাপ্তি ও গণনা পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেছে। ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ কেন্দ্রে সময়মতো ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং ৯৪ শতাংশ কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স সঠিকভাবে সিল করা হয়। তবে কিছু সমস্যা উঠে এসেছে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে। যেখানে দেখা যায়, প্রায় ১৬ শতাংশ কেন্দ্র বন্ধের সময় উপস্থিত ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি এবং ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ কেন্দ্রে গণনার সময় পর্যবেক্ষক বা দলীয় প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

আরেক সংগঠন অধিকারের নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তারা ২২টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৫০টি আসনের ৪৬৬টি ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে। নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশের বিষয়ে অধিকার জানায়, ১৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি জেলায় ৬১টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা তারা পেয়েছেন। এর মধ্যে গ্রামীণ আসনগুলোতে ৬২ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬ শতাংশ) নির্বাচনী বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত বা বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ ২৪টি তথা ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

নির্বাচনের দিনের পর্যবেক্ষণে অধিকার জানায়, ৯৬ শতাংশ ভোট কেন্দ্র কোনো সহিংসতা ছাড়াই সময়মতো খোলা হয়। কোনো ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেয়া হয়নি। একটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণে বাধা দেয়া হয়। সাধারণভাবে ভোটগ্রহণ শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সারি নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকে। ৯৯ শতাংশ পর্যবেক্ষক ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো শারীরিক সহিংসতা হয়নি বলে জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার সময় বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব, অধিকারের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কোরবান আলী, রুপসার প্রতিনিধি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান ও নারী অধিকার সম্পর্কিত পর্যবেক্ষক সংগঠন আরশি ট্রাস্টের নাফিসা রায়হানা বক্তব্য প্রদান করেন।

আরও