সাম্প্রতিক বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে।
আজ সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগমন্ত্রী।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৫০ টন চাল ও শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে প্রতি জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষকে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবার দেয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কোস্টগার্ড কাজ করছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্পিডবোট ও রাবারের নৌকা পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়কও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কার করবে। আর কাঁচা সড়ক থাকলে সেগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্মসূচির মাধ্যমে মেরামত করবে।
মন্ত্রী আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি জরুরি ভিত্তিতে চালু থাকবে।
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি আগামীকাল বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ব্যাপকভাবে পরিদর্শন করবেন। এদিনই তিনি চট্টগ্রামে যাচ্ছেন।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।