দেশের চিকিৎসা খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নতুন সংযোজন করেছে স্কয়ার হাসপাতাল। রোবোটিক সার্জারি কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে জটিল ও সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলক কম রক্তপাত, কম জটিলতা এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর এ রোবোটিক সার্জারি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিনই রোবটের সহায়তায় দুজন রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়।
এ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, রোবোটিক সার্জারির মাধ্যমে জটিল ও সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচার আরো নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে ক্যান্সার সার্জারি, জটিল হার্নিয়া সার্জারিসহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। এতে অস্ত্রোপচারের সময় রক্তপাত কম হয়। এছাড়া দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা এবং অপেক্ষাকৃত কম সময়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সুযোগ তৈরি হয়।’
চিকিৎসকরা বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারিতে চিকিৎসকই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন, তবে অত্যাধুনিক রোবটিক প্রযুক্তি চিকিৎসকের হাতের নড়াচড়াকে আরো সূক্ষ্ম ও নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করে। ফলে জটিল ও সংবেদনশীল স্থানে অস্ত্রোপচার আরো নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। বিশেষ করে শরীরের খুব ছোট ও সংবেদনশীল অংশে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা চিকিৎসকদের সহায়তা করবে।’
স্কয়ার হাসপাতালে স্থাপিত রোবোটিক সার্জারি ব্যবস্থায় রয়েছে দুটি কনসোল। একটি কনসোল থেকে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন। অন্য কনসোলটি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ প্রযুক্তিতে টেলি-সার্জারির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এনআই ভূইয়া, অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন, ডা. তন্বী তরফদার, ডা. আয়েশা সিদ্দিকা, ডা. সিলভিয়া হোসেনসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অর্থাৎ ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা নেয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে দেশের রোগীদের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, রোবোটিক সার্জারি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল ক্যান্সার সার্জারি, হার্নিয়াসহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার আরো সূক্ষ্ম ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কঠোর সেফটি প্রটোকল মেনে রোবোটিক সার্জারি পরিচালনা করা হবে।’
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরো বলেন, রোবোটিক সার্জারি দেশের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক এ প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল অস্ত্রোপচার আরো সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
রোবোটিক সার্জারি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তারা। দ্রুত সুস্থ হয়ে রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো এবং হাসপাতালে অবস্থানের সময় কমিয়ে আনা এ প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। এতে রোগী ও স্বজনদের সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয় কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া স্কয়ার হাসপাতালে রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রেও আধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘মোনালিসা’ নামের বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলেন, ‘রোবোটিক সার্জারি শুধু অস্ত্রোপচারের প্রযুক্তি নয়; এর মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং টেলি-সার্জারির মতো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থারও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ উদ্যোগ দেশের চিকিৎসাসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখবে।