দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত রোববার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে তা পাঠদানের উপযোগী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সরকারের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরাইল উপজেলা প্রশাসনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতেও সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।
খোঁজ নিতে গিয়ে কালিকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে স্কুল খোলার সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় প্রস্তুত থাকবে আশা করি।
সরাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, সরাইল উপজেলায় ১২৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালেদ জামিল খান বলেন, ‘উপজেলায় মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, ডিগ্রি কলেজ, মাদ্রাসাসহ মোট ২৫টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক দুটি মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার বিষয়ে সবরকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সরাইল উপজেলার কয়েকেটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কিছু স্কুল-কলেজ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ-সিট সবাই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটিতে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থার্মোমিটার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।’ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ১২ সেপ্টেম্বর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে বলেও তিনি জানান।