বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: শামা ওবায়েদ

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরের ক্ষতিগ্রস্ত একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বর্তমান সরকার। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং উন্নয়ন অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য

বিদেশী বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থা পুনর্গঠন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি: কনফারেন্স ২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনে আজ তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরের ক্ষতিগ্রস্ত একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বর্তমান সরকার। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং উন্নয়ন অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের কাছে সরকারের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করে। তাই বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাদের মতামত ও উদ্বেগ বোঝা এবং একই সঙ্গে সরকারের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যে সব ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা করি, সবাইকে আশ্বস্ত করি যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দরজা সবসময় খোলা। কিন্তু বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে বিডা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।‘

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্‌বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক কূটনীতির রূপরেখা তুলে ধরেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বিদেশী মিশন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে পার্টনার এনগেজমেন্ট নোট আহ্বান করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আগামী মাসগুলোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি (আইআইটি) উইং এবং বিডা যৌথভাবে ধারাবাহিক ক্লোজড-ডোর রাউন্ডটেবিল বৈঠকের আয়োজন করবে বলে জানানো হয়।

সরকারের আশা করছে এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরো ফলপ্রসূ করতে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়তা করবে।

আরও