গাইবান্ধায় ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় নামছে না পানি, দুর্ভোগে শহরবাসী

টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধা শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও প্রধান সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ পৌরবাসী।

সরজমিনে দেখা যায়, শহরের মাস্টারপাড়া, মুন্সিপাড়া, শচীন চাকী সড়ক ও কাচারি বাজার যেন ছোটখাটো নদীতে পরিণত হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস ও ভিএইড রোডের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এখন হাঁটু পানি। ড্রেনগুলোর ওপরের স্ল্যাবের ঢাকনা খোলা থাকলেও পানি নামছে না। কোথাও ড্রেন উঁচু, আবার কোথাও নিচু। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক গতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শহরবাসী।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় ছাত্রীদের জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। বর্তমানে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরাও। এক অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষার সময় এ পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।’

শহরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণেই এ স্থায়ী দুর্ভোগ। এছাড়া স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে ড্রেনের ভেতর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হানিফ জানান, শহরের কানেকটিং সড়ক ও ড্রেনগুলো অত্যন্ত সরু। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি এ সরু ড্রেন দিয়ে নামতে পারে না। এছাড়া অনেক জায়গায় ড্রেনের মুখে জাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে পানি উপচে রাস্তায় চলে আসছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজ জানিয়েছেন, এ বৃষ্টিপাত আরো দুইদিন থাকতে পারে।

আরও