বন্যায় দুর্ভোগ

বান্দরবানে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

পানি কমে যাওয়ায় বান্দরবানে মানুষ ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করলেও কাটেনি জনদুর্ভোগ।

উল্টো কর্দমাক্ত ঘর, কাদা, ময়লা-আবর্জনা ও পচনশীল বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে তারা। একই সঙ্গে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি সরে গেলেও সড়ক, অলিগলি, ড্রেন ও বাড়িঘরের আঙিনায় কাদা ও নানা ধরনের কর্দমাক্ত ময়লা-বর্জ্য জমে রয়েছে। অনেক জায়গায় আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় ড্রেন কাদায় ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও সামান্য জলাবদ্ধতা থাকলেও হেঁটে পার হওয়া যাচ্ছে। অনেকেই ঘরে ফিরে কাদামাটি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা প্লাস্টিক, গাছের ডালপালা, গৃহস্থালির বর্জ্য ও পচনশীল আবর্জনা বিভিন্ন স্থানে জমে আছে। এসব দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি জীবাণুনাশক ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বান্দরবান পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর দিদারুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও দুর্যোগকবলিত এলাকায় খাদ্যসহায়তা অব্যাহত থাকার কারণে এবং বর্তমানে লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের সংকট থাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পানি সম্পূর্ণ কমে গেলে অপসারণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সওজের ৬৩ কিলোমিটার সড়কসহ ধসে পড়েছে তিনটি আরসিসি ও সাতটি বেইলি সেতু। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৫১টি সড়কের ৩১১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। তেমনই একটি এলাকা বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের লুলাইং। ইউনিয়নের ক্যায়াজু বাজার থেকে সড়কপথে লুলাইংপাড়ায় যেতে হয়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের কারণে ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ফলে স্থানীয় কৃষক তাদের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল বাজারজাত করতে পারছেন না। একই সঙ্গে বাইরের এলাকা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনুসন্ধান শেষ হলে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা যাবে। এরপর সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

আরও